Advertisement

US Iran War 2.0: 'গোটা হরমুজ আমাদের দখলে ,' হুঙ্কার ট্রাম্পের, ফের ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শুরু?

পশ্চিম এশিয়ায় কি তবে এবার যুদ্ধ ২.০? হরমুজ প্রণালীর উপর আমেরিকার ‘প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ইরানের অর্থনীতি ‘পুরোপুরি ধসে পড়ছে’।

ইরান-আমেরিকার মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ? ইরান-আমেরিকার মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ?
Aajtak Bangla
  • তেহরান ,
  • 02 Sep 2026,
  • अपडेटेड 8:28 AM IST
  • পশ্চিম এশিয়ায় কি তবে এবার যুদ্ধ ২.০?
  • হরমুজ প্রণালীর উপর আমেরিকার ‘প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’
  • এমনটাই দাবি করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। এরমধ্যেই হরমুজ প্রণালীর উপর আমেরিকার ‘প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ইরানের অর্থনীতি ‘পুরোপুরি ধসে পড়ছে’। দুই দেশের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলার পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে পরিস্থিতি বেগতিক করে তুলতে পারে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম Truth Social-এ একটি পোস্টে ABC News-এর একটি প্রতিবেদন খারিজ করে দেন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইরানকে ফের আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'ইরানকে কোনও চুক্তিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে না।'

ট্রাম্প বলেন, 'ইরান যদি এমন কোনও চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যা আমাদের কাছে মূল্যহীন, তাতেও আমার কিছু যায় আসে না। বরং বর্তমান পরিস্থিতিই আমার পছন্দ।' তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালীর উপর আমেরিকার ‘প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং ইরানের অর্থনীতি ‘পুরোপুরি ধসে পড়ছে’।

এরপরেই সরাসরি ইরানের জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'কবে ইরানের মানুষ জেগে উঠে লড়াই করবে?'

ফেব্রুয়ারি মাসে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই একাধিকবার হরমুজ প্রণালীর উপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। তবে তেহরান ওয়াশিংটনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের বক্তব্য, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে মঙ্গলবার ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় আমেরিকা। এর পাল্টা জবাবে ইরান জর্ডন, বাহরিন এবং ইরাকে থাকা মার্কিন সম্পদ ও ঘাঁটিতে হামলা চালায়।

এর আগে সপ্তাহান্তে দুই দেশের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যা জুলাইয়ের পর প্রথম। এরপর সোমবার হরমুজ প্রণালী ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া দু'টি তেলের ট্যাঙ্কারেও হামলার ঘটনা ঘটে।

এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৪ ডলারেরও বেশি বেড়ে যায় এবং পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে গিয়ে দিন শেষ করে।

Advertisement

নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অচলাবস্থা আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কার্যত জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) জানিয়েছে, আমেরিকার হামলা কৌশলগত এই জলপথের উপর ‘কতৃত্ব আরও শক্ত’ করবে।

ইরানের আধিকারিকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, তেহরানকে যদি পারস্য উপসাগর দিয়ে তেল রফতানি করতে বাধা দেওয়া হয়, তা হলে অন্য কোনও দেশও সেখান দিয়ে তেল রফতানি করতে পারবে না।

অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও খারিজ করেছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, 'তেহরানের সঙ্গে কোনও চুক্তি, যে কাগজেই লেখা হোক না কেন, তার কোনও মূল্য নেই।' তাঁর দাবি, ইরানকে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

ইরান-আমেরিকার এই সর্বশেষ সংঘাতের আগে কয়েক মাস ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। জুনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু তা দ্রুত ভেঙে যায়। এরপর হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ দুই দেশের সংঘাতের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement