
বিশ্ব রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক মোড় ঘটিয়ে দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধংদেহী আবহের অবসান ঘটিয়ে এবার সরাসরি ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কথা নিশ্চিত করলেন হোয়াইট হাউসের প্রধান। আন্তর্জাতিক মহলে এই খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
এক বিশেষ বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আমেরিকার সরাসরি আলোচনা শুরু হয়েছে এবং এরই পাশাপাশি ওই অঞ্চলে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বড়সড় ঘোষণা করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই ত্বরিত ও নাটকীয় সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলো বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
হোয়াইট হাউস এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে যে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যেকার এই গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি বেশ কিছুদিন ধরেই অত্যন্ত গোপনে চালানো হচ্ছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আকস্মিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ফলে ওই অঞ্চলে চলমান রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটতে চলেছে যা গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির খবর। ট্রাম্পের দাবি আমেরিকার এই সাহসী ও দূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করবে এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বহু জটিল আন্তর্জাতিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান সূত্র খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে। এই সমঝোতার খবরটি প্রকাশ্য আসতেই মার্কিন শেয়ার বাজারসহ বিশ্ব বাজারে এক ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের সঙ্গে রফাসূত্র খোঁজার সিদ্ধান্তকে বিশ্বের একাধিক প্রথম সারির শক্তিশালী দেশ স্বাগত জানালেও মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে এবং মিত্রদেশগুলির মধ্যে এই নিয়ে মৃদু গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে সমস্ত সমালোচনাকে উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন যে বিশ্বশান্তি রক্ষা এবং আমেরিকার নাগরিকদের সার্বিক সুরক্ষার স্বার্থেই তিনি এই বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এই ঐতিহাসিক চুক্তির সবকটি দিক খতিয়ে দেখতে দুই দেশের শীর্ষ আধিকারিকরা খুব শীঘ্রই আরও একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে চলেছেন বলে জানা গিয়েছে। ট্রাম্পের এই মাস্টারস্ট্রোক সিদ্ধান্তটি আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির চালচিত্র সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।