
আবার নতুন করে উত্তপ্ত হতে পারে মধ্যপ্রাচ্য়। ফের ইরানে হামলার হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর আমেরিকা ও ইজরায়েল মিলে সামরিক অভিযান শুরু করলে উপসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রের নীচে থাকা ইন্টারনেট কেবলগুলিকে নিশানা করার প্ল্যান করেছে তেহরান। রয়টার্সকে এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের নিরাপত্তা বিভাগের আধিকারিকরা।
এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার ফ্লোরিডায় একটি জনসভায় ট্রাম্প বলেন, 'আমরা হয়তো আরও একটা ছোটখাটো এপিক ফিউরি’ অভিযান চালাতে পারি।'
আসলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল আমেরিকা। তার নাম ছিল 'এপিক ফিউরি'। আর তেমন কিছু আবার চালানো হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
মাথায় রাখতে হবে, ইতিমধ্যেই যুদ্ধের জন্য সারা পৃথিবীর অবস্থা খারাপ। তেলের দাম বাড়ছে। অর্থনীতির উপর পড়ছে চাপ। এমন পরিস্থিতিতে আবার হামলার হুমকি দিলেন ট্রাম্প।
আরও চিন্তার বিষয় হল, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জন্য এখনও পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বাসস্থান হারিয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। এখন দেখার কতদিন এই পরিস্থিতি থাকে।
দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে পারে আমেরিকা, দাবি ট্রাম্পের
শুক্রবার এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছেন, আমেরিকা চাইলে খুব দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে পারে। তবে এখনই যুদ্ধ শেষ করা উচিত, নাকি ধীরে ধীরে কমিয়ে দেওয়া উচিত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
হরমুজ প্রণালী দিয়েও তেল পরিবহণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, 'আমরা যা চাই, সবই পাচ্ছি।'
এ দিকে চলতি মাসের গোড়ায় তিনি জানিয়েছিলেন, আগামী মাসে আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না ওয়াশিংটন। এই নির্বাচনের উপর মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ভর করছে। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও খবর প্রকাশ্যে এসেছিল।
ইন্টারনেটের কেবল কেটে দেওয়ার প্ল্যান
নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গালফ অঞ্চলে সমুদ্রের নীচে থাকা যোগাযোগের কেবলগুলিকে নিশানা করার পরিকল্পনা তৈরি করেছে ইরান। আমেরিকা ও ইজরায়েল ফের হামলা চালালে এই পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন ইরানের নিরাপত্তা বিভাগের দুই উচ্চপদস্থ আধিকারিক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কীভাবে বা ঠিক কোথায় এই হামলা চালানো হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাঁদের কাছে নেই।
তবে তাঁদের মধ্যে একজন জানিয়েছেন, সমুদ্রের তলায় থাকা ইন্টারনেট কেবল কেটে দেওয়া হতে পারে। এমনকী সেগুলি মেরামত করার কাজও আটকে দেওয়ার চেষ্টা করবে তেহরান। এর ফলে ইন্টারনেট সংযোগ সহ অন্যান্য যোগাযোগ পরিষেবা দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হতে পারে।
সমুদ্রের তলদেশে থাকা এই কেবলগুলি আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট এবং টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে এগুলিতে হামলা হলে শুধু আঞ্চলিক যোগাযোগ নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও ইন্টারনেট ও অন্যান্য যোগাযোগ পরিষেবায় বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।