Advertisement

Eiffel Tower BAPS Contro: হিন্দু প্রতিনিধিদলের সফরে প্যারিসে তীব্র বিতর্ক, আইফেল টাওয়ার বন্ধ, কেন?

একটি হিন্দু ধর্মীয় প্রতিনিধিদলের সফরের প্রতিবাদে কর্মচারীরা বিক্ষোভ করায় ফরাসি রাজধানী প্যারিসের সুপ্রসিদ্ধ আইফেল টাওয়ার সোমবার অল্প সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে যে, পরিদর্শনের সময় মহিলা কর্মীদের তাদের কর্মক্ষেত্র ছেড়ে যেতে বলা হয় এবং তাদের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের নিয়োগ করা হয়। এই ঘটনার ফলে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।

 বিতর্কের জেরে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার বন্ধ বিতর্কের জেরে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার বন্ধ
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 08 Sep 2026,
  • अपडेटेड 9:44 AM IST

কর্মীরা  কর্মবিরতি পালন করায় সোমবার ফরাসি রাজধানীর বিখ্যাত আইফেল টাওয়ার দর্শনার্থীদের জন্য কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্মীদের অভিযোগ, স্বামীনারায়ণ সংস্থা (BAPS)-এর সঙ্গে যুক্ত একটি হিন্দু ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদল পরিদর্শনের সময় মহিলা কর্মীদের তাদের কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিনিধিদলটির ব্যক্তিগত পরিদর্শনের সময় মহিলা কর্মীদের লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতে বলা হয়েছিল।

জানা গেছে, ঘটনাটি শনিবার ঘটেছে। BAPS-এর সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১০০ জনের একটি হিন্দু ধর্মীয় প্রতিনিধিদল সেদিন প্যারিসের কাছে একটি হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধন-সম্পর্কিত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আইফেল টাওয়ারে এসে পৌঁছায়। শ্রমিক ইউনিয়নের  প্রতিনিধিদের মতে, প্রতিনিধিদলটি যাওয়ার সময় মহিলা কর্মীদের তাদের কর্মস্থল ছেড়ে যেতে বলা হয় এবং পুরুষ কর্মীদের তাদের জায়গায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ইউনিয়ন এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইউনিয়ন প্রতিনিধি ডায়ান ডেভয়েন বলেছেন যে, এই ঘটনাটি কর্মীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। মহিলাদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ আর হতে দেওয়া যাবে না।

আইফেল টাওয়ারের কর্মীরা ক্ষুব্ধ
শনিবার BAPS (বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা)-এর সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১০০ জনের একটি প্রতিনিধিদলের সফরকালে এই ঘটনাটি ঘটে। প্রতিনিধিদলটি একটি হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধনের জন্য প্যারিসে ছিল। এই ঘটনায় কর্মীর  ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং সিনিয়ার ফরাসি রাজনীতিবিদরাও বিষয়টির সমালোচনা করেছেন। শ্রমিক ইউনিয়নের মতে, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা যখন পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন মহিলা কর্মীদের তাঁদের কর্মক্ষেত্র ছেড়ে যেতে বলা হয়। ইউনিয়নের প্রতিনিধি ডায়ান ডেভয়েন ফরাসি টিভিকে বলেন, 'শনিবার প্রতিনিধিদলটি যাওয়ার সময় মহিলা কর্মীদের তাদের কর্মস্থল ছেড়ে যেতে বলা হয়েছিল যাতে পুরুষরা তাদের জায়গা নিতে পারে।' আইফেল টাওয়ারের কর্মীরা এই নির্দেশের নিন্দা করেছেন, যা লিঙ্গের ভিত্তিতে মহিলা কর্মীদের প্রান্তিক করে তুলেছে।

 

কর্মচারীরা সোমবার সকালে ম্যানেজমেন্টের  সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে একটি বৈটক করেন এবং দাবি জানান যে ভবিষ্যতে কোনও মহিলা কর্মীকে যেন লিঙ্গভেদে বৈষম্যের শিকার হতে না হয়। কর্মীদের বৈঠকের  কারণে আইফেল টাওয়ার খুলতে বিলম্ব হয়েছিল। স্মৃতিস্তম্ভটিতে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয় যে, পরিচালনগত কারণে আইফেল টাওয়ার খুলতে বিলম্ব হবে। ইউনিয়নের মতে, কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার জন্য কর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। তবে, কর্মীরা বলছেন ঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত প্রয়োজন। আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী সংস্থা SETE-ও এই ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সংস্থাটি স্বীকার করেছে যে প্রতিনিধিদলটি নারী কর্মীদের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগের দাবি করেছিল। এই ধরনের শর্ত মেনে নেওয়া উচিত হয়নি। এই প্রসঙ্গে, আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী সংস্থা SETE বলেছে, তারা হিন্দু প্রতিনিধিদলের সফরটি এমনভাবে পরিচালনা করার জন্য অনুরোধ করেছিল যাতে মহিলাদের সঙ্গে  তাঁদের মেলামেশা ন্যূনতম হয়, সেইসঙ্গে সংস্থাটি এও  বলেছে যে এই শর্তগুলো মানা উচিত হয়নি।

Advertisement

ফরাসি নেতারা বলছেন, এটি মূল্যবোধের পরিপন্থী
প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার এক বিবৃতিতে এই ধরনের পরিস্থিতিকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, 'এগুলো আমার মূল্যবোধ নয়, এবং আইফেল টাওয়ারেরও এই মূল্যবোধ ধারণ করা উচিত নয়, এখানে যেন মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকে কোনও বৈষম্য ছাড়াই অবাধে চলাচল ও কাজ করতে পারে।' তিনি বলেন, এই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হবে। জাতীয় সংসদের সভাপতি ইয়েল ব্রন-পিভেটও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, বিদেশি দর্শনার্থীদের চাহিদা মেটাতে মহিলাদের সরে যেতে বলা উচিত নয়।

BAPS সংস্থার বিবৃতি
সোমবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে প্যারিসের BAPS হিন্দু মন্দির জানিয়েছে যে তারা এই উদ্বেগগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'আমাদের প্রতিনিধিদলের আকার বড় হওয়ায়, অন্যদের কোনও অসুবিধা বা বিঘ্ন এড়ানোর জন্য আইফেল টাওয়ার দলের সঙ্গে  সমন্বয় করে স্বাভাবিক খোলার সময়ের শুরুতেই এই পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।' বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'আমাদের জানা তথ্য মতে, কোনও সময়েই কাউকে আইফেল টাওয়ারে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়নি।' সংস্থাটি বলেছে যে তারা পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সেবার সার্বজনীন মূল্যবোধে বিশ্বাস করে।

প্যারিসের কাছে একটি বিশাল BAPS হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধনের সময়েই এই বিতর্কটি সামনে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও রবিবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন যে এই মন্দিরটি ভারতের প্রাচীন ধারণা এবং মানবিক মূল্যবোধকে ফ্রান্সে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।

Read more!
Advertisement
Advertisement