
Europe Heatwave 2026: ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে মৃত্যুর সংখ্যা ১,৩০০ ছাড়াল। গত কয়েক দিনে শুধু ফ্রান্সেই প্রায় ১,০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জার্মানিতে ভেঙেছে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। দাবানল, ঝড় ও পরিবহণ বিপর্যয়ে নাজেহাল একাধিক দেশ। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।
২১ জুন থেকে এই তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছিল। আর তা এখনও ইউরোপের বিস্তীর্ণ অংশে রীতিমতো দাপট দেখাচ্ছে। WHO-র মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় ১৫ কোটি মানুষ অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের মধ্যে রয়েছেন। তাঁর কথায়, এক সময় এই ধরনের তাপপ্রবাহকে খুব বিরল মনে করা হত। এখন তা প্রায় প্রতি বছরই ঘটছে। এই পরিস্থিতির জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করেছেন তিনি।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ফ্রান্সে। সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তীব্র গরমের মাত্র তিন দিনে প্রায় ১,০০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সাধারণ সময়ে যেখানে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৯০০ থেকে ১,০০০-এর মধ্যে থাকে, সেখানে তাপপ্রবাহ চলাকালীন তা বেড়ে ১,৪০০-রও বেশি হয়েছে। মৃতদের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশের বয়স ৬৫ বছরের বেশি। বিশেষ করে যেসব অঞ্চল ‘রেড অ্যালার্ট’-এর আওতায় ছিল, সেখানেই মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।
জার্মানিতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দেশের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এবং ২৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন রাতের তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ায় শুধু বার্লিনেই এক দিনে প্রায় ৫০০টি অতিরিক্ত অ্যাম্বুল্যান্স কল এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্র্যান্ডেনবার্গ গেট এলাকায় সাধারণ মানুষকে জল ছিটিয়ে ঠান্ডা করার জন্য জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ।
তাপপ্রবাহের জেরে জার্মানির বিভিন্ন জঙ্গলে ভয়াবহ দাবানলও ছড়িয়েছে। কোথাও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ থাকায় আগুন নেভানোর কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রবল গরমে রাস্তার কংক্রিট ফেটে গিয়েছে, রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জার্মান রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় সফর এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। হামবুর্গ থেকে প্রাগগামী একটি ট্রেনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ৬০০-রও বেশি যাত্রীকে উদ্ধার করতে হয়। গরমজনিত অসুস্থতায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দু'জন।
অন্যদিকে সুইডেনে বজ্রপাতে একাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ডেনমার্কে রেকর্ড গরমের পর শুরু হয়েছে প্রবল বজ্রঝড়। গ্রিসে এখনও জারি রয়েছে দাবানলের সর্বোচ্চ সতর্কতা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, ইউরোপের বহু বাড়ি, স্কুল এবং কর্মক্ষেত্র এত দীর্ঘ সময়ের চরম গরম সহ্য করার মতো করে তৈরি হয়নি। তাই ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি দেশকে ‘হিট হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে WHO।
এদিকে ইউরোপের জলবায়ু বিজ্ঞানীদের সংগঠন ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলেই এহেন জলবায়ু পরিবর্তন। তার প্রভাবেই এই ভয়াবহ তাপপ্রবাহ।