
ইজরায়েলের নির্বাচনে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। একদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট এবং অপরদিকে, প্রাক্তন সেনাপ্রধান আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট। যদিও কোনও পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছতে পারেনি বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে বুথফেরত সমীক্ষা। ফলে পরবর্তী সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলি। সব মিলিয়ে ইজরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
ইজরায়েলের নির্বাচনে ভোটাররা সরাসরি কোনও ব্যক্তিকে নয়, রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। সেখানে কোনও দলই এখনও পর্যন্ত এককভাবে সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। তাই সরকার গঠনের জন্য একাধিক দলকে একজোট হয়ে জোট তৈরি করতে হতে পারে।
বুথফেরত সমীক্ষার ইঙ্গিত অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এবং প্রাক্তন সেনাপ্রধান আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট, দুই পক্ষই প্রায় ৫১টি করে আসন পেতে পারে। অথচ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। অর্থাৎ, দুই শিবিরের কেউই এককভাবে ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারছে না। অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলি বাকি ১৯টি আসন পেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ফলে পরবর্তী সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তাদের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে আরব দলগুলিকে নিয়ে দুই শিবিরের অবস্থান এক নয়। নির্বাচনের রাতে নিজের ভাষণে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আরব দলগুলির উপর নির্ভরশীল কোনও সরকার তিনি গঠন করতে চান না। অন্যদিকে, আইজেনকট নির্দিষ্ট কিছু শর্তে আরব দলগুলির সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে তাঁর এই অবস্থান সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের একাংশকে অসন্তুষ্ট করতে পারে।
এদিকে, ইতিমধ্যেই ১৬ লক্ষেরও বেশি ভোট গণনা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্ট্রাল ইলেকশনস কমিটি। এখনও পর্যন্ত বৈধ ভোটের ২২.২৪ শতাংশ পেয়ে এগিয়ে রয়েছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি। তাদের প্রাপ্ত ভোট ১৫.৪১ শতাংশ।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্যালেস্টাইন-ইজরায়েলি জয়েন্ট লিস্ট। বৈধ ভোটের ৮.২৮ শতাংশ পেয়েছে তারা। সামান্য ব্যবধানে পিছনে রয়েছে নাফতালি বেনেটের দল। তাদের প্রাপ্ত ভোট ৮.২২ শতাংশ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইজরায়েলে মোট প্রায় ৭৩.৩ লক্ষ ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৫৬.৯ লক্ষেরও বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন।
তবে বুথফেরত সমীক্ষার ফলই যে শেষ কথা, তা নয়। সমীক্ষার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভুলের সম্ভাবনা থাকে। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে নির্বাচনের সরকারি ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার কথা। সেই ফল প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে, শেষ পর্যন্ত কোন দল কতগুলি আসন পেল এবং কারা সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে রইল। আপাতত ইজরায়েলের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আরব দলগুলির সমর্থন ছাড়া আদৌ কি নতুন সরকার গঠন সম্ভব হবে?