
ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভে জ্বলছে ফ্রান্স। শিক্ষা ব্যবস্থার হাঁড়ির হাল ফ্রান্সে। নিম্নমানের পরিকাঠামো। স্কুলগুলির অবস্থা শোচনীয়। এই সব কিছুর প্রতিবাদে ফ্রান্সের গর্জে উঠেছে পড়ুয়ারা। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভের জন্য ‘গণ অভিবাসন’ ও ইসলাম দায়ী। দেশে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তাঁর বৃহত্তর দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গেই এই মন্তব্যকে দেখা হচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিশানায় ইসলাম ধর্ম
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, 'ফ্রান্সে যা ঘটছে, তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া গণ অভিবাসন ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি স্কুল নিয়ে নয়, এটি ইসলামকে ঘিরে, যারা মহান একটি দেশকে দখল করে নিতে চাইছে!'
ইতিমধ্যেই প্যারিস সহ গোটা ফ্রান্সে ৫০০-র বেশি স্কুলের পঠনপাঠন বন্ধ রাখা হয়েছে, নিরাপত্তার খাতিরে। ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এডোওয়ার্ড জেফ্রে জানিয়েছেন, ২৪টি স্কুল বিল্ডিং পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষোভরকারীরা। ভাঙচুর চলেছে। ৭৮ জনের বেশি শিক্ষাকর্মী আহত। গত সপ্তাহের শেষের দিকে প্যারিসে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। টলাস, মন্টেপেলা, মার্সেই সহ একের পর এক শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।
কেন ফ্রান্সে Gen Z বিক্ষোভ শুরু হল?
পড়ুয়াদের অভিযোগ, ফ্রান্সের শিক্ষা ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে। দিনের পর দিন প্রচুর স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, ক্লাসরুমগুলিতে পড়ুয়াদের বসার জায়গা নেই, ছাপিয়ে যাচ্ছে, স্কুল বিল্ডিংগুলির জীর্ণ দশা, যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে উন্নত শিক্ষা ও পরিকাঠামোর দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে শত শত কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন পড়ুয়ারা। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষও হয়েছে।
ফ্রান্সের আইনমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন জানাচ্ছেন, এই হিংসাত্মক বিক্ষোভের জেরে ফ্রান্সের ৩ হাজার ৭০০টি স্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি স্কুল এখনও পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র রিপোর্ট বলছে, বিক্ষোভ ঠেকাতে প্রায় ১৮০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ছাত্র-ছাত্রীরা ঠিক কী চাইছেন?
পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মূল ইস্যু হল, দেশের স্কুলগুলিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, পর্যাপ্ত শিক্ষাকর্মী, ক্লাসরুমগুলির উন্নয়ন, স্কুলের বিল্ডিং সহ পরিকাঠামো অবিলম্বে ঠিক করতে সরকার ব্যবস্থা নিক। তাঁদের অভিযোগ, গোটা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত নিম্নমানের হয়ে গিয়েছে। এত খারাপ অবস্থা যে, পড়ুয়ারা ঠিক মতো স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করতে পারছে না। শিক্ষক কম থাকায় একের পর এক ক্লাস হচ্ছে না। তাড়াতাড়ি স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
গত সোমবারের একটি ঘটনা ঘিরে প্রতিবাদ আরও জোরাল হয়ে ওঠে। দক্ষিণ ফ্রান্সের লেন্স শহরে সংঘর্ষ চলাকালীন ১৫ বছর বয়সি এক পড়ুয়ার হাত নষ্ট হয়ে যায়। এরপরেই প্যারিসের একটি হাইস্কুলের সামনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পড়ুয়াদের পাশাপাশি আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন অভিভাবকরাও। প্যারিস সহ একাধিক শহরের রাস্তায় আগুন জ্বলছে।
ফ্রান্স সরকার কী বলছে?
ফ্রান্স সরকারের বক্তব্য, স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকার খুব শীঘ্রই বড় পদক্ষেপ করবে। সরকার এ বিষয়ে খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখছে। এদিকে ফ্রান্সের এই বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশ বেলজিয়ামেও। সে দেশে লিয়েজ শহরে প্রায় ৩০ জন বিক্ষোভকারী পড়ুয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।
ফ্রান্সে পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর শেষ টার্ম খুব একটা সুখকর নয়। ফ্রান্সে নির্বাচন এখনও দেরি আছে। তার আগেই যে ভাবে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, তা মোক্ষম চাপে ফেলেছে ম্যাক্রোঁকে। ২০২৭ সালে ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। পড়ুয়াদের এই হিংসাত্মক আন্দোলন শুধুই ম্যাক্রোঁর কাছেই নয়, পরবর্তী প্রেসিডেন্টকেও চাপে রাখবে।