
আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু বাবার স্থলাভিষিক্ত হওয়া মোজতবা খামেনেইও কি বেঁচে নেই? মার্কিন হামলায় কি তিনিও প্রাণ হারিয়েছেন? আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এখন তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেই। এই নিয়ে নানা ধোঁয়াশার মধ্যেই জল্পনায় ইতি টানলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইন্ডিয়া টুডে-র গ্রুপ এডিটর (ফরেন অ্যাফেয়ার্স) গীতা মোহনকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাত্কারে পেজেশকিয়ান জানালেন, মোজতবা খামেনেই বেঁচে আছেন ও নিজের কাজ করছেন।
খামেনি জীবিত ও যথেষ্ট সক্রিয়, বললেন পেজেশকিয়ান
BRICS সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লি এসেছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। গীতা মোহনকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, মোজতবা খামেনেই জীবিত এবং সক্রিয় আছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বেশিরভাগ নেতাকে টার্গেট করলেও মোজতবা খামেনিকে খুঁজে বের করতে পারেনি। তাঁর মতে, এ কারণেই আমেরিকা এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাঁর কথায়, '৬ মাসের উপর হয়ে গেল যুদ্ধ চলছে, এখনও পর্যন্ত লড়ে যাচ্ছে ইরান। মাথা নত করেনি।'
মাসুদ পেজেশকিয়ানের হাত ধরে একসঙ্গে হাঁটলেন মোদী
দিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি ছবি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তা হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে হাত ধরে হাঁটছেন। ভারত-ইরান সম্পর্ককে তুলে ধরা এই ছবিটি নিয়ে গীতা মোহনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে আমাদের দেশের ক্রমাগত শক্তিশালী হয়ে ওঠা সম্পর্কের একটি লক্ষণ এটাই।
ভারত ও ইরানের শক্তিশালী সম্পর্কের লক্ষণ
ভাইরাল হওয়া ছবিটি সম্পর্কে জানতে চাইলে পেজেশকিয়ান বলেন, 'আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে। ইরান প্রতিদিন ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্ক আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে।' তিনি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, 'ভারত ও ইরানের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি কখনও পরিবর্তিত হবে না।'
পেজেশকিয়ানের বক্তব্য, তেহরান ও নয়াদিল্লির মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতা বিশ্বে ক্রমবর্ধমান 'স্বৈরাচারী মনোভাব' মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে। তার এই বক্তব্যকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি প্রচ্ছন্ন আক্রমণ হিসেবে দেখা হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমরা আমাদের গভীর ও শক্তিশালী সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। শক্তিশালী সহযোগিতা বিশ্বে ক্রমবর্ধমান স্বৈরাচারী মনোভাব মোকাবেলায় আমাদের সাহায্য করবে।'