
পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে বড় খবর। অভিযোগ পঞ্জাব প্রদেশের নারোয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে ভেঙে ফেলা হয়েছে একটি শতাব্দী প্রাচীন হিন্দু মন্দির। স্থানীয় বাসিন্দা, সংখ্যালঘু সংগঠন এবং একটি রাজনৈতিক দলের অভিযোগ, নিকটবর্তী একটি মাদ্রাসার জন্য জমি অধিগ্রহণ করতেই ধর্মীয় চরমপন্থীরা গত ২১ অগাস্ট মন্দিরটি ভেঙে ফেলে। তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ পাকিস্তান প্রশাসন। সরকারি আধিকারিকদের দাবি, বৃষ্টির কারণে পুরোনো মন্দিরটি ধসে পড়েছে।
পাকিস্তান মসিহা মিল্লাত পার্টি (PMMP) পঞ্জাব সরকারের কাছে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে এবং মন্দিরটি ফের তৈরি করার দাবি জানিয়েছে। পার্টির চেয়ারম্যান আসলাম পারভেজ সাহোত্রা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি পঞ্জাব প্রদেশের অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, মন্দির ভাঙার পর মন্দিরের চূড়ার ধাতব সরঞ্জাম, ইট এবং অন্যান্য সামগ্রীও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
পারভেজ সাহোত্রার দাবি, মন্দির সংলগ্ন জমিটি মূলত ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড (ইটিপিবি) একটি মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য ইজারা নিয়েছিল। বেশ কয়েক বছর ধরে ভাড়া পরিশোধ না করায়, ইজারাটি বাতিল করা হয়। এর পরেও, কিছু লোক অবৈধভাবে ওই সম্পত্তির কিছু অংশ দখল করে নেয়। তাঁর দাবি, যারা মন্দির ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত, তারা আদতে তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি) পার্টির সদস্য।
পাকিস্তানের সংখ্যালঘু, এক হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা রতন লাল মন্দির ভাঙার নিন্দা জানিয়েছেন এবং এটি পুনর্নির্মাণের দাবি করেছেন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ও ইটিপিবি মন্দিরটি বাঁচাতে ব্যর্থ। তাঁর দাবি, মাদ্রাসার কারণে মানুষ এখন মন্দির প্রাঙ্গণে যেতেও ভয় পাচ্ছে।
ইটিপিবি-র উচ্চপদস্থ আধিকারিক রানা ইফতিখার জানিয়েছেন, মন্দিরটির বয়স আনুমানিক ১০০ থেকে ১২৫ বছর। তাঁর বক্তব্য, ভারী বৃষ্টির কারণে মন্দিরটি ধসে পড়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মন্দিরের জমি কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, PMMP পঞ্জাব প্রদেশে থাকা হিন্দু মন্দির, শিখ গুরুদ্বার এবং খ্রিস্টান গির্জাগুলির সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে।