Advertisement

PM Modi: হিন্দু ঐতিহ্য কীভাবে ছড়িয়ে রয়েছে তামাম এশিয়ায়? ১২ বছর ধরে যে ভাবে প্রমাণ করে চলেছেন মোদী

তবে শুধু ইন্দোনেশিয়াই নয়, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রাচীন হিন্দু মন্দিরগুলির সংরক্ষণের দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া সেই ২০১৪ সাল থেকেই শুরু হয়েছে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী পদে বসেন নরেন্দ্র মোদী। সেই বছর থেকেই এশিয়ার দেশগুলিতে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন হিন্দু মন্দিরগুলির সংস্কার ও সংরক্ষণে বিশেষ ভাবে উদ্যোগী হয় মোদী সরকার।

ইন্দোনেশিয়ায় প্রমবানন মন্দিরের সামনে প্রধানমন্ত্রী মোদীইন্দোনেশিয়ায় প্রমবানন মন্দিরের সামনে প্রধানমন্ত্রী মোদী
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 09 Jul 2026,
  • अपडेटेड 11:25 AM IST
  • হিন্দুদের ঐতিহ্যকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
  • এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রাচীন হিন্দু মন্দিরগুলির সংরক্ষণের দায়িত্ব
  • ২০১৪ সাল থেকেই এই কাজ করে চলেছে মোদী সরকার

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতির নানা অংশ। বিশেষ করে এশিয়ার নানা দেশে ভারতের বহু মন্দির রয়েছে, যা একদা বিদেশ শত্রুরা ভাঙচুর, লুঠ চালিয়েছিল। সেই সব দেশের হিন্দুদের ঐতিহ্যকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া সফরে গিয়ে প্রমবানান মন্দিরের সংরক্ষণের দায়িত্ব নিল ভারত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোয়ো সুবিয়ান্তো বুধবার যোগ্যাকার্তার ঐতিহাসিক প্রমবানান মন্দিরের পরিদর্শনে যান। মন্দির সংরক্ষণ ও পুনর্গঠন সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। ইন্দোনেশিয়ার সরকার ও ভারতের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই) যৌথভাবে এই কাজ করবে। মোদী মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনাও করেন। ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের যোগ্যাকার্তার কাছে অবস্থিত প্রমবানান মন্দির কমপ্লেক্স সে দেশের বৃহত্তম হিন্দু মন্দির। কম্বোডিয়ার আঙ্কোর ওয়াতের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম হিন্দু মন্দিরও।

তবে শুধু ইন্দোনেশিয়াই নয়, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রাচীন হিন্দু মন্দিরগুলির সংরক্ষণের দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া সেই ২০১৪ সাল থেকেই শুরু হয়েছে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী পদে বসেন নরেন্দ্র মোদী। সেই বছর থেকেই এশিয়ার দেশগুলিতে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন হিন্দু মন্দিরগুলির সংস্কার ও সংরক্ষণে বিশেষ ভাবে উদ্যোগী হয় মোদী সরকার।

ইন্দোনেশিয়ার প্রমবানন মন্দির

২০১৪ সাল: ভিয়েতনাম, মাই সন অভয়ারণ্য 

ইউনেস্কো স্বীকৃত মি সন অভয়ারণ্যের পুনরুদ্ধারের কাজ হাতে নেয় মোদী সরকার। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শৈব মন্দির কমপ্লেক্স এবং প্রাচীন চাম্পা রাজ্যের ধর্মীয় কেন্দ্র ছিল।

ভিয়েতনামের মাই সন অভয়ারণ্য

২০১৫ সাল: শ্রীলঙ্কার তিরুকেথিশ্বরম মন্দির

ভারত সরকারের উদ্যোগে প্রকল্পটি পুনরায় চালু হওয়ার পর ২০১৫ সালের জুলাই মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে একটি MoU স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় শ্রীলঙ্কার ঐতিহাসিক তিরুকেথীশ্বরম মন্দিরের সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের জন্য ভারত ৩২ কোটি ৬০ লক্ষ শ্রীলঙ্কান রুপি অনুদান সহায়তা প্রদান করে। ভগবান শিবকে উৎসর্গীকৃত শ্রীলঙ্কার পাঁচটি প্রাচীন ‘পঞ্চ ঈশ্বরম’ মন্দিরের মধ্যে তিরুকেথিশ্বরম অন্যতম।

২০১৭ সাল: নেপালে ২৮টি হেরিটেজ সাইটের সংস্কার

Advertisement

নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ভারতের ৫ কোটি মার্কিন ডলারের পুনর্গঠন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় মোদী সরকার ২৮টি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থানের পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ প্রকল্প শুরু করে। এর মধ্যে ছিল ঐতিহাসিক সেতো মচ্ছিন্দ্রনাথ মন্দির এবং বুধানীলকণ্ঠ মন্দির ধর্মশালার সংস্কার ও সংরক্ষণ।

২০১৭ সাল: মায়ানমারে বাগান হেরিটেজ জোন

ইউনেস্কো স্বীকৃত বাগান প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চলে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলির পুনর্গঠনের জন্য ভারত একটি মউ স্বাক্ষর করে। ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (ASI)-এর মাধ্যমে ১২টি ঐতিহাসিক প্যাগোডার সংস্কার করা হয় এবং ঐতিহাসিক আনন্দ মন্দিরের পুনরুদ্ধারও সম্পন্ন করা হয়।

২০১৯ সাল: বাহরিন, শ্রীনাথজি মন্দির

মুসলিম রাষ্ট্র বাহরিন সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মানামায় অবস্থিত ২০০ বছরের পুরোনো শ্রীনাথজি (শ্রীকৃষ্ণ) মন্দিরের ৪২ লক্ষ মার্কিন ডলারের পুনর্বিকাশ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন হিন্দু মন্দিরের ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিশ্চিত হয়।

২০২০ সাল: বাংলাদেশ, জয় কালী মাতা মন্দির

ভারতের অনুদান সহায়তায় নাটোরের প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন জয় কালী মাতা মন্দিরের পুনর্নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ করা হয়। পাশাপাশি আনন্দময়ী কালী মাতা মন্দির এবং রামকৃষ্ণ মন্দিরের সংস্কারেও সহায়তা করে ভারত সরকার, যার ফলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু ধর্মীয় কেন্দ্রগুলির সংরক্ষণ সম্ভব হয়।

২০২১ সাল: বাংলাদেশের রমনা কালী মন্দির

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর সময় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক রমনা কালী মন্দিরের পুনর্নির্মাণে ভারতের সহায়তার কথা ঘোষণা করে মোদী সরকার। ২০২১ সালে মন্দিরটির উদ্বোধন হয়, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু তীর্থস্থান পুনরুজ্জীবিত হয় এবং ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন সভ্যতাগত বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।

Read more!
Advertisement
Advertisement