Advertisement

India-Japan Relation: বাড়াবাড়ি শুরু করেছে চিন, ভারত ও জাপানের বন্ধুত্ব কেন মাস্টারস্ট্রোক?

গত একদশক ধরেই চিন তাদের সামরিক শক্তি দ্রুত গতিতে বাড়াচ্ছে। বেজিং চায় দক্ষিণ চিন সাগরে আন্তর্জাতিক জলবণ্টনে নিয়ন্ত্রণ। দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের একাধিপত্য চলে এলে, বাণিজ্যের বিরাট পথ সরাসরি খুলে যাবে চিনের জন্য। জাপানের জন্য সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ ঘিরে বিবাদ ও তাইওয়ানের উপর চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বড়সড় ঝুঁকি। আবার ভারতের LAC-তে বারবার সংঘর্ষ ও CPEC-এর মাধ্যমে পাকিস্তানে চিনের বর্তমান সুরক্ষা বাড়ানোর কৌশলও চিন্তার বিষয়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি, প্রধানমন্ত্রী মোদী ও শি জিনপিংজাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি, প্রধানমন্ত্রী মোদী ও শি জিনপিং
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 03 Jul 2026,
  • अपडेटेड 2:03 PM IST
  • চিনের আগ্রাসন ও ভারত-জাপানের সখ্য

বিশ্ব রাজনীতিতে বর্তমানে চিনের আগ্রাসন নীতি সবচেয়ে চর্চা ও চিন্তার বিষয়ও। দক্ষিণ চিন সাগরে কৃত্রিম দ্বীপ বানানো, তাইওয়ানের কাছে সামরিক ঘাঁটি, ভারতীয় সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও  পূর্ব লাদাখে অস্থিরতা, চিনের আগ্রাসী নীতির একাধিক উদাহরণ দেখা যাচ্ছে। আর চিনের এই আগ্রাসী নীতিতে মাস্টারস্ট্রোক দিল ভারত। জাপান ও ভারত কাছাকাছি আসছে। দুই দেশই এখন QUAD-এর মতো মঞ্চে অ্যাক্টিভ। ভারত ও চিনের এই নৈকট্য শুধু আর্থিক উদ্দেশ্যেই নয়, নেপথ্যে রয়েছে রণনীতিক সুরক্ষাও। 

চিনের আগ্রাসন ও ভারত-জাপানের সখ্য

গত একদশক ধরেই চিন তাদের সামরিক শক্তি দ্রুত গতিতে বাড়াচ্ছে। বেজিং চায় দক্ষিণ চিন সাগরে আন্তর্জাতিক জলবণ্টনে নিয়ন্ত্রণ। দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের একাধিপত্য চলে এলে, বাণিজ্যের বিরাট পথ সরাসরি খুলে যাবে চিনের জন্য। জাপানের জন্য সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ ঘিরে বিবাদ ও তাইওয়ানের উপর চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বড়সড় ঝুঁকি। আবার ভারতের LAC-তে বারবার সংঘর্ষ ও CPEC-এর মাধ্যমে পাকিস্তানে চিনের বর্তমান সুরক্ষা বাড়ানোর কৌশলও চিন্তার বিষয়।

এই সব কিছু কিন্তু কাকতালীয় নয়। চিন তার ‘এক চিন’ নীতি এবং ‘নাইন-ড্যাশ লাইন’-এর মতো দাবির মাধ্যমে আঞ্চলিক ভারসাম্য বিঘ্নিত করছে। ফলস্বরূপ, জাপান ও ভারত উভয়ই মনে করছে, আলাদা ভাবে  থাকলে চিনের আগ্রাসী মনোভাব আরও বাড়বে। তাই, উভয় দেশই ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ ধারণাটিকে শক্তিশালী করেছে, যা একটি নিয়ম-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর জোর দেয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও সানায়ে তাকাইচি- রয়টার্স

ভারত-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্ব

২০০০-এর দশক থেকে ভারত-জাপান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে, কিন্তু চিনের আগ্রাসী মনোভাব একে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। উভয় দেশই কোয়াড (ভারত, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়া)-এ সক্রিয়, যাকে চিনের চ্যালেঞ্জের একটি জবাব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাপান ভারতে বুলেট ট্রেন, পরিকাঠামো এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বন্দর উন্নয়নের মতো প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। যৌথ সামরিক মহড়া, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানসহ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাও তাকাইচির ভারত সফরকালে দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ভারত এখন জাপানকে শুধু অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবেই নয়, চিনের কৌশলগত প্রতিপক্ষ হিসেবেও দেখে। জাপানও ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে।

Advertisement

টোকিওর 'শূন্য অস্ত্র' নীতিতে বড় পরিবর্তন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান একটি শান্তিবাদী সংবিধান গ্রহণ করে। সংবিধানের ৯ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, জাপান যুদ্ধ করার অধিকার ত্যাগ করে এবং শুধুমাত্র একটি আত্মরক্ষা বাহিনী (জেএসডিএফ) বজায় রাখে। ‘শূন্য অস্ত্র’ নীতি, অর্থাৎ প্রাণঘাতী অস্ত্র রফতানি না করা, এই শান্তিবাদিতারই একটি অংশ ছিল। কয়েক দশক ধরে জাপান কেবল অ-প্রাণঘাতী উপকরণ রফতানি করেছে। কিন্তু ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী সানাও তাকাইচির সরকার এই নীতিটি পুরোপুরি পরিবর্তন করে। জাপান এখন প্রাণঘাতী অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ, ড্রোন এবং আরও অনেক কিছু রফতানি করতে পারে। চিন ও উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকির সরাসরি ফল হল, এই পরিবর্তন। জাপান তার প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ২ শতাংশে বৃদ্ধি করছে এবং অনুচ্ছেদ ৯ সংশোধনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং - ছবি: রয়টার্স

এই পরিবর্তনের লক্ষ্য হল, জাপানকে একটি স্বাভাবিক রাষ্ট্রে পরিণত করা, যা তার বন্ধুদের (ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) অস্ত্র সরবরাহ করতে এবং তার প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে। চিন এটিকে 'সামরিকীকরণ' বলে আখ্যা দিলেও, জাপান এটিকে 'শান্তি বজায় রাখার জন্য একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ' হিসেবে বিবেচনা করে।

পরিবর্তনের পেছনের প্রধান কারণ

চিনের সামরিক আধুনিকীকরণ, তাইওয়ানের ওপর চাপ এবং সামুদ্রিক আগ্রাসন, এই সবই জাপানকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাও একটি ক্রমবর্ধমান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাপান আর একা লড়াই করতে পারে না, তাই দেশটি জোটগুলিকে শক্তিশালী করছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণ এই কৌশলেরই একটি অংশ। চিনের সীমান্ত উত্তেজনা এবং ভারত মহাসাগরে তার ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ভারতের জন্যও উদ্বেগের কারণ। উভয় দেশই অর্থনৈতিকভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। কোয়াডে সহযোগিতা, দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং প্রযুক্তি অংশীদারিত্ব এই লক্ষ্যেরই অংশ।

ভারত-জাপান অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হচ্ছে, তবে কিছু প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। ভারত তার জোটনিরপেক্ষ নীতি এবং রাশিয়া-চিন সম্পর্কের কারণে একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট এড়িয়ে চলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর জাপান নির্ভরশীল হলেও ট্রাম্পের মতো নেতাদের খামখেয়ালি নীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সেক্ষেত্রে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালীকরণ, সামুদ্রিক নজরদারি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা প্রসারিত হবে। চিন যদি তার আগ্রাসন অব্যাহত রাখে, তবে ভারত-জাপান সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

Read more!
Advertisement
Advertisement