Advertisement

Iran-US War: রান্নার গ্যাস থেকে তেল, ভয় ধরাচ্ছে যুদ্ধ, হরমুজে কত ভারতীয় জাহাজ আটকে এখন?

জাহাজগুলিকে নিরাপদে হরমুজ পার করাতে ইরানের সঙ্গে বারবার আলোচনা চালাচ্ছে ভারত সরকার। ওই ৯টি জাহাজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে তেল ও LPG। কিন্তু কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জুন মাসে ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলায় অন্তত তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এরপর থেকেই পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে ভারত।

হরমুজ প্রণালীতে আটকে একাধিক ভারতীয় জাহাজহরমুজ প্রণালীতে আটকে একাধিক ভারতীয় জাহাজ
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 13 Jul 2026,
  • अपडेटेड 1:29 PM IST
  • ৯টি জাহাজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে তেল ও LPG
  • বাড়বে কি জ্বালানির দাম?
  • ফের রান্নার গ্যাসের সঙ্কটের আশঙ্কা

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ফের জোর যুদ্ধ লেগেছে। ফের বন্ধ করা হয়েছে হরমুজ প্রণালী। ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ দিয়ে আটকে থাকা জাহাজগুলি কীভাবে নিরাপদ ভাবে পেরবে, তা নিয়ে আবার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যার নির্যাস, ফের তেল ও গ্যাস সরবরাহ ধাক্কা খাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। 

৯টি জাহাজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে তেল ও LPG

ব্লুমবার্গ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, কম করে ৯টি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে। সেই সব জাহাজে রয়েছে প্রায় ২০০ জন নাবিক। এই জাহাজগুলিকে নিরাপদে হরমুজ পার করাতে ইরানের সঙ্গে বারবার আলোচনা চালাচ্ছে ভারত সরকার। ওই ৯টি জাহাজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে তেল ও LPG। কিন্তু কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জুন মাসে ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলায় অন্তত তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এরপর থেকেই পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে ভারত।

হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজ- ফাইল ছবি

ভারতের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ, এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশ এবং এলপিজি (রান্নার গ্যাস) আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই জলপথ দিয়েই আসে। ফলে এই প্রণালীতে কোনও ধরনের বিঘ্ন ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজ- ফাইল ছবি

বাড়বে কি জ্বালানির দাম?

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতিমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ২.৩৪ ডলার বা ৩.০৮ শতাংশ বেড়ে ৭৮.৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ২.২১ ডলার বা ৩.০৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭৩.৬২ ডলারে উঠেছে। যদিও এই মুহূর্তে ভারতের খুচরো বাজারে জ্বালানির দামে কী প্রভাব পড়বে, তা স্পষ্ট নয়। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সরবরাহ এবং দাম, দুই ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হতে পারে।

Advertisement

ফের রান্নার গ্যাসের সঙ্কটের আশঙ্কা

এর আগে যুদ্ধের সময় সরবরাহে টান পড়ায় কেন্দ্র সরকার হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। পরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি হওয়ার পর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। এছাড়াও, যেসব গ্রাহকের সক্রিয় পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (PNG) সংযোগ রয়েছে, তাঁদের এলপিজি সংযোগ ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ভারতমুখী মাত্র ৫০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। রবিবার এই সংখ্যা নেমে দাঁড়ায় মাত্র ছয়ে, যা গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হলে ভারতের জ্বালানি আমদানি, পরিবহণ ব্যয় এবং দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির দাম, সব কিছুর ওপরই তার প্রভাব পড়তে পারে।

Read more!
Advertisement
Advertisement