
ইরানের টার্গেটে এবার পাকিস্তান? এমনিতেই ভিখারির দশা পাকিস্তানের। তার মধ্যেই বড় ইঙ্গিত মিলল। ইরানের রাষ্ট্রপতি মসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের আলোচনার পরেই বিশ্ব সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় হুঁশিয়ারি দিলেন। ইরানের রাষ্ট্রপতির বক্তব্য, এই যুদ্ধ শুরু করার জন্য যারা দায়ী, তাদের যদি শাস্তির ব্যবস্থা না করা হয়, তাহলে বিশ্বের পরিস্থিতি চরম সঙ্কটে পড়ে যাবে।
পাকিস্তানের পক্ষে মোটেও সুবিধাজনক নয়
এরপর ইরানের রাষ্ট্রপতি যা বললেন, তা পাকিস্তানের পক্ষে মোটেও সুবিধাজনক নয়। কারও নাম না করে পেজেশকিয়ান বললেন, এই যুদ্ধের পিছনে কিছু মুখোশধারীদের অনেকেই আমল দিচ্ছে না। তাদের এড়িয়ে চললে আন্তর্জাতিক দুনিয়া আরও অস্থির হয়ে উঠবে।
বস্তুত, পাকিস্তান আমেরিকার বন্ধু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হয়ে প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছেন শেহবাজ শরিফ। এমনকী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার জন্যও সরব হয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই ইরানের চরম শত্রুর বন্ধু মানে ইরানেরও শত্রু পাকিস্তান।
পাকিস্তান কি নিউট্রাল থাকতে পারবে?
পাকিস্তানে ইতিমধ্যেই তেল, গ্যাসের সঙ্কট শুরু হয়ে গিয়েছে। বিদ্যুত্ সঙ্কটও চরমে। ইসলামাবাদ ভেবেছিল, ট্রাম্পের পদলেহন করতে পারলেই ভাল থাকবে তাদের দেশ। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, এই তীব্র সঙ্কটের সময় আমেরিকাও পাশে নেই। এর মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইকে হত্যার ঘটনায় নিন্দাও করেনি পাকিস্তান। ইরান মুসলিম দেশ। পাকিস্তানও।
মিসাইল হামলা চালাতে পারে ইসলামাবাদেও
পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ তেহরানকে সতর্ক করেছিল যাতে তারা সৌদি আরব ভূখণ্ডে কোনও হামলা না চালায়। কারণ পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, এক দেশের উপর হামলা হলে সেটিকে দুই দেশের উপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয় এমন সময়, যখন ইরানের ড্রোন রিয়াধে চআঘাত হানে এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, বিশেষ করে রস তানুরা তেল পরিশোধনাগার কমপ্লেক্সকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
অতএব ইরান যদি দেখে, পাকিস্তান সামরিক সাহায্য করছে সৌদি আরবকে, তাহলে পাকিস্তানকেও ছেড়ে কথা বলবে না ইরান। মিসাইল হামলা চালাতে পারে ইসলামাবাদেও।