
ব্রাজিল থেকে অস্ট্রেলিয়া! প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিল দুই হাম্বব্যাক তিমি। আন্তর্জাতিক গবেষক দল জানিয়েছে, দু’টি হাম্বব্যাক তিমি ভিন্ন সময়ে দক্ষিণ আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে এই বিশাল দূরত্ব অতিক্রম করেছে। গবেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু সামুদ্রিক প্রাণীবিজ্ঞানেই নয়, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্রের পরিবেশগত বদলের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। তিমিদের এই অস্বাভাবিক দীর্ঘ যাত্রার নেপথ্যে খাদ্যের অভাব, সমুদ্রের পরিবেশ বদল কিংবা নতুন প্রজনন ক্ষেত্রের খোঁজ; একাধিক কারণ থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
হাম্বব্যাক তিমি (Humpback Whale) পৃথিবীর বৃহত্তম সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের অন্যতম। সাধারণত তারা নির্দিষ্ট রুট ধরেই যাতায়াত করে। ঠান্ডা সমুদ্র এলাকায় খাবার সংগ্রহ এবং উষ্ণ সমুদ্রে প্রজননের জন্য তারা প্রতি বছর দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়। তবে এবার যে দূরত্ব তারা অতিক্রম করেছে, তা বিজ্ঞানীদেরও বিস্মিত করেছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, তিমিদের চিহ্নিত করা হয়েছে তাদের লেজের নীচের বিশেষ নকশা দেখে। মানুষের আঙুলের ছাপ যেমন আলাদা হয়, তেমনই প্রতিটি হাম্বব্যাক তিমির লেজের প্যাটার্নও আলাদা। ১৯৮৪ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া এবং লাতিন আমেরিকায় তোলা প্রায় ১৯ হাজার ছবির বিশ্লেষণ করে এই তথ্য সামনে এসেছে। ইমেজ রিকগনিশন প্রযুক্তির সাহায্যে মিল খুঁজে বের করেন বিজ্ঞানীরা।
প্রথম তিমিটিকে ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের হার্ভে বে এলাকায় দেখা গিয়েছিল। পরে ২০১৯ সালে সেটিকে ব্রাজিলের সাও পাওলোর কাছে চিহ্নিত করা হয়। এই দুই জায়গার মধ্যে সরাসরি দূরত্ব প্রায় ১৪ হাজার ২০০ কিলোমিটার।
অন্য একটি তিমিকে ২০০৩ সালে ব্রাজিলের বাহিয়া উপকূলে দেখা গিয়েছিল। প্রায় ২২ বছর পরে, ২০২৫ সালে সেটিকে আবার অস্ট্রেলিয়ার হার্ভে বে এলাকায় দেখা যায়। এই যাত্রার দূরত্ব প্রায় ১৫ হাজার ১০০ কিলোমিটার বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এর আগে হাম্বব্যাক তিমির দীর্ঘতম যাত্রার রেকর্ড ছিল কলম্বিয়া থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা এবং খাদ্যচক্রে বড় পরিবর্তন হচ্ছে। তার প্রভাবেই হয়তো তিমিরা নতুন পথ বেছে নিচ্ছে। পাশাপাশি, এই ধরনের দীর্ঘ যাত্রা প্রজাতির জিনগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতেও সাহায্য করতে পারে।
এক সময়ে অতিরিক্ত শিকারের কারণে হাম্বব্যাক তিমি বিলুপ্তির মুখে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে গত কয়েক দশকে সংরক্ষণ প্রকল্পের জেরে তাদের সংখ্যা আবার বাড়তে শুরু করেছে। নতুন এই গবেষণা সেই প্রজাতিকে নিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরল বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।