
ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রান্তে চলতে থাকা অশান্তি, হিংসাত্মক সংঘর্ষ এবং স্থানীয়ভাবে কার্ফু জারির ঘটনায় সতর্ক ভারত। ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক এবং সে দেশে ভ্রমণ করতে যাওয়া ভারতীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিল নয়াদিল্লি। বুধবার ফ্রান্সে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের তরফে একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সেখানে ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দূতাবাসের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়ভাবে কার্ফু জারির কথা মাথায় রেখে ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকতে হবে। যেখানে বিক্ষোভ চলছে, সেখানে বড় জমায়েত ও ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার কথাও বলা হয়েছে।
ফ্রান্সের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং সে দেশের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খবরাখবর রাখার পরামর্শ দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। প্যারিস অঞ্চলের সরকারি গণপরিবহণ সংস্থা RATP-র ওয়েবসাইট থেকে বাস, ট্রেন-সহ গণপরিবহণ পরিষেবা সংক্রান্ত আপডেট দেখে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে প্যারিসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস অথবা মার্সেইয়ে ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন ভারতীয় নাগরিকরা।
কেন অশান্ত ফ্রান্স?
উচ্চমাধ্যমিক স্তরের স্কুলগুলিতে পড়াশোনার পরিস্থিতি নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ থেকেই অশান্তির সূত্রপাত। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে স্কুলগুলিতে পর্যাপ্ত অর্থের অভাব এবং অতিরিক্ত পড়ুয়ার চাপের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ থেকে আন্দোলন বড় আকার নেয়।
গত ১৭ অক্টোবর বিক্ষোভের বাইরে হিংসাত্মক সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর প্যারিস-সহ একাধিক শহরের কিছু এলাকায় স্থানীয়ভাবে কার্ফু জারি করে প্রশাসন। তালিকায় রয়েছে লিল, লিয়ঁ এবং নিসের মতো শহরও। মার্সেইয়েও জমায়েত ও বিক্ষোভের উপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। বিক্ষোভের সময় একাধিক জায়গায় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সপ্তাহান্তের অশান্তির ঘটনায় ২,৪০০-র বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ১০০০ পুলিশকর্মী।
অন্যদিকে, হিংসার ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তবে নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলি।
ফ্রান্সের প্রধান ছাত্র সংগঠন এবং ২০১৮ ও ২০১৯ সালে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে আন্দোলন করে আলোচনায় আসা 'ইয়েলো ভেস্ট' আন্দোলন শনিবার নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ এবং সরকারি পরিষেবায় কাটছাঁটের প্রতিবাদে আগামী ৫ নভেম্বর ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। ফলে ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।