
ফ্রান্সে জি ৭ বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠক হয়। এমন পরিস্থিতিতে ভারত নির্দিষ্টভাবে আমেরিকাকে অনুরোধ করেছিল এই বৈঠকের সময় যেন কোনও পূর্ণাঙ্গ সাংবাদিক বৈঠক না হয়। যদিও পরে সাংবাদিক বৈঠক হয়। এখন প্রশ্ন হল, কেন এমনটা ঘটেছিল?
বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। তাঁর দাবি, ভারতের অনুরোধে ট্রাম্প প্রথমে বিষয়টিতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি বিষয়টি ভুলে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করতে বলেন। এই সময় পাশেই ছিলেন মোদী। তারপরও ট্রাম্পের সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রায় ৪৫ মিনিটের একটি মিডিয়া সেশন হয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁয়ে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মোদী ও ট্রাম্পের এই বৈঠক হয়। সেই সময়ের ঘটনা এটি।
ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে ওই বৈঠকের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনের স্মৃতি তুলে ধরেন গোর। তিনি বলেন, 'আমরা তখন মঞ্চের পিছনে ছিলাম। একসময় সেখানে শুধু প্রেসিডেন্ট এবং আমি ছিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ভারতীয়রা কী কী বিষয় তুলে ধরতে চলেছে। আমরা কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করি।'
তিনি আরও বলেন, 'প্রেসিডেন্ট জানতে চেয়েছিলেন, ভারতের কোনও দাবি আছে কি না। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি অনুরোধ ছিল। সেটি ছিল, মিডিয়াকে ঢুকতে দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ সাংবাদিক বৈঠক যেন না হয়।'
এরপর গোর দাবি করেন, ভারতের এই কথা তিনি সরাসরি ট্রাম্পকে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, 'আমি প্রেসিডেন্টকে বলেছিলাম, ভারত কোনও প্রশ্ন চায় না। তিনি বলেছিলেন, ঠিক আছে, কোনও সমস্যা নেই।'
এরপর বৈঠক শুরু হলে সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যানরা ওই ঘরে প্রবেশ করেন। মোদী ও ট্রাম্প মুখোমুখি বসে প্রাথমিক বক্তব্য রাখেন। গোরের দাবি, ঘরে প্রায় ৫০টি ক্যামেরা ছিল।
গোর বলেন, 'বৈঠক শুরু হল, সংবাদমাধ্যম ঢুকল। সেখানে প্রায় ৫০টি ক্যামেরা ছিল। প্রেসিডেন্ট একদিকে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদী অন্যদিকে বসেছিলেন। দুজনেই কয়েক মিনিট করে বক্তব্য রাখলেন।'
কিন্তু প্রাথমিক বক্তব্য শেষ হওয়ার পরই ট্রাম্প অদ্ভুত কাজ করে ফেলেন। তিনি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, 'কোনও প্রশ্ন রয়েছে কি?'
এরপর প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব চলে। গোরের দাবি, ওই সময় 'সবকিছু নিয়েই আলোচনা হয়েছে।'
যদিও গোরের এই দাবি নিয়ে মুখ খোলেনি ভারত সরকার। তারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।