
গত ৪০ বছরে প্রথমবার নিউজিল্যান্ড সফরে গেলেন কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই সফর ঐতিহাসিক প্রমাণিত হল। অকল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকের পর, দুই দেশ মোট ১৮টি বড় চুক্তি ও ঘোষণায় গ্রিন সিগন্য়াল দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০টি MoU চুক্তি ও ৮টি বড় ঘোষণা রয়েছে।
এই সিদ্ধান্তগুলোর ফলে দুই দেশ এখন প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা, ক্রীড়া এবং সংস্কৃতির মতো অনেক ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করবে। এটিকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমাগত আগ্রাসন রোখার একটি পদক্ষেপ হিসেবেও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিরক্ষা খাতে বড় ডিল
যে চুক্তিগুলি নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয়েছে, তার মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডিলগুলিও রয়েছে। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের সামরিক বাহিনী এখন সামুদ্রিক নিরাপত্তা, তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ মহড়ার ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করবে। দুই দেশ সমুদ্রবিদ্যা সংক্রান্ত মানচিত্র তথ্য বিনিময়েও সম্মত হয়েছে, যা সমুদ্রপথের নিরাপত্তাকে আরও জোরদার করবে।
অন্য একটি চুক্তির আওতায় বলা হয়েছে, প্রয়োজনে উভয় দেশের নৌবাহিনী একে অপরকে রসদ দিতেও সহায়তাও করতে পারবে। দুই দেশ একসঙ্গে জঙ্গিদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে। এছাড়াও, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয়েও একটি চুক্তি হয়েছে। ভূমিকম্প, সুনামি ও অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অভিজ্ঞতা ও টেকনোলজির বিনিময় করা হবে।
কৃষি ও দুগ্ধ খাত লাভবান হবে
কৃষি ও দুগ্ধ খাতেও সহযোগিতা বাড়ানো হবে। উভয় দেশ নতুন প্রযুক্তি, গবেষণা এবং উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি বিনিময় করবে। একটি কিউইফল কর্মপরিকল্পনাও চালু করা হয়েছে। নাগাল্যান্ড ও উত্তরাখণ্ডে দুটি কিউইফল উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যেখানে কৃষকরা নতুন প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ পাবেন।
পর্যটন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির প্রচার
পর্যটনের প্রসারের লক্ষ্যে এবং একে অপরের দেশে আরও বেশি মানুষকে ভ্রমণে উৎসাহিত করতে উভয় দেশ একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ক্রীড়া ক্ষেত্রে ক্রীড়াবিদ প্রশিক্ষণ, ক্রীড়া বিজ্ঞান এবং ক্রীড়া চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে সহযোগিতা করবে। গুজরাটের লোথালে নির্মাণাধীন জাতীয় সামুদ্রিক ঐতিহ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়নেও নিউজিল্যান্ড সহযোগিতা করবে।
২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা
দুই দেশই ২০৩০ সালের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য ৭ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার টার্গেট সেট করেছে। এটিকে একটি ভবিষ্যৎ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।
চিনের ক্ষেত্রে এই পার্টনারশিপের গুরুত্ব কী?
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, রসদ সরবরাহ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বর্ধিত সহযোগিতা ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে পার্টনারশিপকে আরও শক্তিশালী করবে। যখন চিন এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে, তখন এই চুক্তিগুলোকে একটি শক্তিশালী স্ট্র্যাটেজিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এগুলো সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।