Advertisement

India-US News: 'ভারতের উপর লক্ষ্য...’, হঠাৎ নয়াদিল্লিকে নিশানা আমেরিকার, কী ব্যাপার?

India-US Tension: ‘ভারত আমাদের নজরে’, চিনকে সাহায্যের অভিযোগ! হঠাৎ কেন নয়াদিল্লিকে নিশানা করছে আমেরিকা?

 হঠাৎ কেন নয়াদিল্লিকে নিশানা করছে আমেরিকা? হঠাৎ কেন নয়াদিল্লিকে নিশানা করছে আমেরিকা?
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 14 Aug 2026,
  • अपडेटेड 8:53 PM IST
  • রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা, রুশ তেল কেনা এবং চিনের সঙ্গে বাণিজ্য।
  • একাধিক বিষয় নিয়ে নয়াদিল্লির উপর চাপ বাড়াচ্ছে আমেরিকা।
  • গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো।

India-US News: রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা, রুশ তেল কেনা এবং চিনের সঙ্গে বাণিজ্য। একাধিক বিষয় নিয়ে নয়াদিল্লির উপর চাপ বাড়াচ্ছে আমেরিকা। এর মধ্যেই ভারতকে নিয়ে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো। তাঁর দাবি, চিনের পণ্য আমেরিকায় পাঠানোর ক্ষেত্রে ভারত-সহ ৪০টিরও বেশি দেশকে ব্যবহার করা হচ্ছে। নাভারোর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে। আমেরিকার অভিযোগ, চিনের উপর বসানো শুল্ক এড়াতে তৃতীয় কোনও দেশের মাধ্যমে পণ্য আমেরিকায় ঢোকানো হচ্ছে। এই তালিকায় শুধু ভারত নয়, আমেরিকার ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক অংশীদার কানাডা, মেক্সিকো, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশগুলির নামও রয়েছে।

অর্থাৎ, ওয়াশিংটনের অভিযোগের কেন্দ্রে শুধু ভারত নয়। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ একই সময়ে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি নিয়েও আমেরিকার চাপ বাড়ছে।

‘ভারত আমাদের রাডারে’, কী বললেন নাভারো?
মার্কিন বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো একটি নতুন হোয়াইট হাউস রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, চিনের পণ্য তৃতীয় দেশের মাধ্যমে আমেরিকায় ঢোকার বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে। সেই সূত্রেই ভারতও মার্কিন নজরদারির মধ্যে রয়েছে বলে তাঁর দাবি।

আমেরিকার অভিযোগ, চিনের উপর বেশি শুল্ক বসানোর পর চিনা সংস্থাগুলি সরাসরি আমেরিকায় পণ্য পাঠানোর বদলে অন্য দেশের রাস্তা ব্যবহার করছে। সেখানে পণ্যের সামান্য পরিবর্তন, প্যাকেজিং বা লেবেল বদলে সেটিকে অন্য দেশের পণ্য হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি।

মার্কিন প্রশাসন এই ধরনের ব্যবস্থাকে ‘শ‌্যাডো ট্রান্স-শিপমেন্ট’ বা গোপন পথে পণ্য পাঠানোর ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আমেরিকার রিপোর্টে ভারত ছাড়াও আরও বহু দেশের নাম রয়েছে। ফলে শুধু ভারতই চিনকে সাহায্য করছে; এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।

‘শ‌্যাডো ট্রান্স-শিপমেন্ট’ আসলে কী?
বিষয়টি সহজ করে বলা যাক।

Advertisement

ধরা যাক, চিনে তৈরি কোনও পণ্যের উপর আমেরিকায় বেশি শুল্ক রয়েছে। সেই পণ্য সরাসরি চিন থেকে আমেরিকায় গেলে ব্যবসায়ীর বেশি টাকা দিতে হবে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেই শুল্ক এড়াতে পণ্যটি প্রথমে অন্য একটি দেশে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে প্যাকেট বদলানো, লেবেল পরিবর্তন বা সামান্য প্রক্রিয়াকরণের পর সেটি ওই দেশের পণ্য হিসেবে আমেরিকায় পাঠানো হচ্ছে।

এ ভাবে পণ্যের আসল উৎস আড়াল করা সম্ভব হলে চিনের উপর বসানো শুল্ক এড়ানো যায়; এটাই আমেরিকার অভিযোগের মূল কথা।

মার্কিন রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ধরনের বাণিজ্যের কারণে আমেরিকা প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ শুল্ক রাজস্ব হারাচ্ছে। রিপোর্টে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য এই ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘোরানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ভারতের কোন কোন শহরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে?
মার্কিন রিপোর্টে ভারতের গুজরাত, চেন্নাই এবং পুণে-র মতো শিল্পাঞ্চলের উল্লেখ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এই জায়গাগুলিতে বিভিন্ন ধরনের শিল্পপণ্য তৈরি হয়। আমেরিকার অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে চিনা পণ্যের সঙ্গে যুক্ত উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণের পর সেগুলি অন্য দেশের তৈরি পণ্য হিসেবে আমেরিকার বাজারে পৌঁছতে পারে।

তবে এই অভিযোগ মানেই এই নয় যে ওই শহরের সমস্ত শিল্প সংস্থা বেআইনি ভাবে চিনা পণ্য আমেরিকায় পাঠাচ্ছে। বরং আমেরিকার রিপোর্টে যে সম্ভাব্য বাণিজ্যপথ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সেটিই এখানে মূল বিষয়।

শুধু ভারত নয়, আরও ৪০ দেশে নজর আমেরিকার
এই ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। মার্কিন অভিযোগের তালিকায় ভারত একা নয়।

মেক্সিকো, কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ আমেরিকার বহু গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারের নামও রয়েছে।

অর্থাৎ, ওয়াশিংটন চিনের শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগকে বড় আকারের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সমস্যা হিসেবে দেখছে।

এই কারণে ভবিষ্যতে আমেরিকার সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য চুক্তিতে ‘রুলস অফ অরিজিন’ বা পণ্য আসলে কোন দেশে তৈরি হয়েছে, তা যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর হতে পারে।

রাশিয়ার তেল নিয়েও ভারতের উপর চাপ
চিনের পাশাপাশি ভারতকে নিয়ে আমেরিকার আর একটি বড় আপত্তি রয়েছে; রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা।

ভারত দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির ৫০.৮৩ শতাংশই রাশিয়া থেকে এসেছে।

এই কারণেই রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলির উপর অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর প্রস্তাব নিয়ে আমেরিকায় আলোচনা হয়েছে। মার্কিন সেনেটে পাস হওয়া সংশোধিত প্রস্তাবে রাশিয়ার তেল বা গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভারতও সেই তালিকায় রয়েছে।

তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে ১০০ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব এবং সেটি কার্যকর হয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়। মার্কিন আইন প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপর বিষয়টি নির্ভর করছে।

আমেরিকা আসলে কী চাইছে?
সব মিলিয়ে আমেরিকার লক্ষ্য মূলত তিনটি জায়গায় বলে মনে হচ্ছে; চিন যাতে মার্কিন শুল্ক এড়াতে অন্য দেশের রাস্তা ব্যবহার করতে না পারে, রাশিয়ার তেল থেকে মস্কোর আয় কমানো এবং আমেরিকার বাজারে বিদেশি পণ্যের প্রবেশে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ তৈরি করা।

ভারতের ক্ষেত্রে সমস্যা হল, নয়াদিল্লি নিজের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ অনুযায়ী রাশিয়া থেকে তেল কিনছে এবং একই সঙ্গে চিন-সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।  

Read more!
Advertisement
Advertisement