
দুবাই থেকে ইজরায়েলগামী বিমানের ক্যাপ্টেনের পরিচয় অবশেষে প্রকাশ্যে। এই বিমানটি ওড়াচ্ছিলেন স্মিত মছার। তিনি ভারতের নাগরিক এবং গুজরাতের বাসিন্দা। তাঁরই কো-পাইলট ছুরি মেরে বিমানটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সেই চেষ্টা রুখে দেন স্মিত।
ছুরির আঘাতে জখম হয়েছিলেন স্মিত। শরীর থেকে রক্ত বেরোলেও তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ কো-পাইলটের হাতে তুলে দেননি। ইজরায়েল সরকারের দাবি, কো-পাইলট বিমানটি ক্র্যাশ করানোর চেষ্টা করেছিলেন। সেই সময় যাত্রীরা দুই পাইলটের মধ্যে লড়াই দেখতে পান। এরপর কয়েকজন যাত্রী ও এক ক্রু সদস্য ককপিটে ঢুকে কো-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার পর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী FZ1073 বিমানের রুট বদলে দেওয়া হয়। সেটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে নামানো হয়। অবতরণের পর কো-পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এক ইজরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, অভিযুক্ত ওমানের নাগরিক।
কে এই ক্যাপ্টেন স্মিত মছার?
২০২২ সালের জুন মাসে ‘ফ্লাইদুবাই’-তে ‘ডাইরেক্ট এন্ট্রি ক্যাপ্টেন’ হিসেবে যোগ দেন স্মিত। তার আগে প্রায় ১১ বছর স্পাইসজেটের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ২০১১ সালের জুন থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত স্পাইসজেটে ছিলেন স্মিত।
বোয়িং ৭৩৭ ফ্লিটের বিশেষজ্ঞ স্মিত বিমান নিরাপত্তা এবং নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। অন্য পাইলটদেরও গাইড করেছেন তিনি। ওয়েলিংকর ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ডিগ্রি রয়েছে তাঁর। ছুরির আঘাতে আহত হওয়ার পর স্মিতকে তাবুকের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
কী বললেন নেতানিয়াহু?
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, বিমানটি যখন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে নীচের দিকে নামতে শুরু করে, তখন যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে পড়েন। তাঁরা দেখতে পান, কো-পাইলট বিমানের সিস্টেমে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছেন।
নেতানিয়াহুর দাবি, যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের দ্রুত হস্তক্ষেপেই বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তিনি এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
বিমানে থাকা সব যাত্রী নিরাপদ রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। সৌদি কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত করছে এবং গ্রেফতার হওয়া কো-পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।