
হরমুজ প্রণালীতে আবারও নিষেধাজ্ঞা জারি করল ইরান। আগের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলে এই গুরুত্বপূর্ণ দলপথে রড়া নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছে তারা।
আমেরিকা জানায় তারা ইকান সংযুক্ত জাহাজ চলাচলের উপর আরোপিত অবরোধ তুলবে না। তারপরই তড়িঘড়ি শনিবার নিজেদের অবস্থান বদল করেছে ইরান। দেশের যৌথ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থা ফেরানো হচ্ছে। যতদিন ইরানের বন্দরগুলির উপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে, ততদিন এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমাতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ইরান ও আমেরিকার প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা সোমবার ইসলামাবাদে হওার সম্ভাবনা রয়েছে। সিএনএন-কে ইরানের একাধিক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, রবিবারই দুই পক্ষের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছতে পারে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান শুক্রবার প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা করলেও মার্কিন অবরোধ সম্পূর্ণ শক্তিতেই বহাল থাকবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত তেহরান ওয়াশিংটনের সঙঅগে, বিশেষ করে তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনও চুক্তিতে পৌঁছচ্ছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার তেলের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছিল কারণ আশা করা হচ্ছিল আমেরিকা ও ইরান কোনও সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে। কিন্ত নতুন করে নিশেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় সরবরাহ আবার সঙ্কুচিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে ফের হরমুজে নিষেধাজ্ঞা বাজারে দামের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
হরমুজ প্রণালীর উপর নিয়ন্ত্রণ ইরানের অন্যতম বড় কৌশলগত শক্তি। পরিস্থিতির জেরে আমেরিকা ওই অঞ্চলে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং ইরানের বন্দরগুলির উপর অবরোধ করেছে। যাতে তেহরান পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এই সংঘাত প্রায় ৭ সপ্তাহ ধরে চলছে।
এর আগে ইরান জানিয়েছিল, লেবাননে ইজরায়েল ও ইরান সমর্থিত হেজবোল্লাহ গোষ্ঠীর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির পর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ ভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প পুনরায় অবরোধ জায় রাখার কথা বলার পর ইরান দাবি করে, এই পদক্ষেপ গত সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন এবং এই পরিস্থিতিতে প্রণালী খোলা রাখা সম্ভব নয়।
শিপিং ডেটা সংস্থা Kpler জানিয়েছে, বর্তমানে প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত এবং ইরানের অনুমোদিত করিডরেই তা সম্ভব হচ্ছে। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, সোমবার থেকে অবরোধ শুরু হওয়ার পর তারা ইতিমধ্যে ২১টি জাহাজকে ইরানের দিকে ফেরত পাঠিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করার জন্য ভারতের কোনও জাহাজের থেকে কোনও টোল ফি বা ট্রানজিট ফি নিচ্ছে না ইরান। আগামীদিনেও তা নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন ভারতে ইরানের রাষ্ট্রদূত। হরমুজ দিয়ে জাহাজ গেলে আটকাবে মার্কিন নৌ-বাহিনী, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হুমকি ঘিরে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। হরমুজ দিয়ে জাহাজ যাতায়াত এখন সবার চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাল্টা দিয়েছে ইরানও। হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসা ভারতের জাহাজগুলির বিষয়ে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে সে দেশের তরফে।