
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তরেজনা তবে কি এবার কমতে চলেছে? কারণ শুক্রবার রাতেই ইসলামাবাদে এসে পৌঁছেছে উরানের প্রতিনিধি দল। আজ শনিবার এই দলটি শান্তি চুক্তির জন্য বৈঠকে বসতে পারে আমেরিকার সঙ্গে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবর মোতাবেক, সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাকের গালিবফের নেতৃত্বে ইরানের তরফে এই আোচনায় অংশ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর এবং একাধিক সংসদ সদস্যসহ শীর্ষ রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক আধিকারিকরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তি হলে তা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে এক্ষেত্রে ইরানের স্পষ্ট বার্তা রয়েছে, তাদের নির্ধারিত আগের ১০টি শর্ত মেনে নিলেই তবেই আলোচনা এগোবে।
হুঙ্কার দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পও
ইরান যে শর্তগুলি রেখেছে তার মধ্যে অন্যতম শর্ত হল হরমুজ প্রণালীর উপর পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণ। শনিবার (ভারতীয় সময়) এই নিয়েও পাল্টা সুর চড়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিন হরমুজে টোল বসানো নিয়ে তিনি বলেন, "এটা আমরা হতে দেব না। এটা পুরোপুরি আন্তর্জাতিক জলসীমানা। তারা যতই চেষ্টা করুক, আমরা এটা হতে দেব না।"
শান্তি আলোচনা প্রসঙ্গে কী দাবি পাকিস্তানের?
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেন, আমেরিকা-ইরান আলোচনার বৈঠক শুধু পাকিস্তানের জন্যই নয়, সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্যও গর্বের বিষয়। এই শান্তি আলোচনার আগে শাহবাজ শরীফ আবার পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমানোরও ঘোষণা করেছেন। এখন ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৫২০ টাকা থেকে কমে ৩৮৫ টাকা হয়েছে, অন্যদিকে পেট্রোলের দামও লিটার প্রতি ১২ টাকা কমানো হয়েছে।
ইরানকে নিশানা আমেরিকার
ইরান যেমন শর্ত সামনে রেখে আলোচনায় বসতে চলেছে, তেমনই একই ভাবে পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছেন ট্রাম্পও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাবে জানান, এই আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের ওপর আবারও হামলা চালাতে প্রস্তুত।
ট্রাম্প বলেন, "ইরানিরা এটা বুঝতে পারছে না যে, তাদের আর কোনও ক্ষমতা নেই। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার থাকার কারণে তারা কেবল সাময়িকভাবে বিশ্বকে সমস্যায় ফেলতে পারে। সত্যিটা হল, আলোচনা করার জন্যই আজ ওরা টিকে আছে। তাদের হাতে অন্য কোনও অপশন নেই।" ট্রাম্প জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আলাপ আলোচনার গতি-প্রকৃতি বোঝা যাবে।