
আমেরিকার সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতি এখন সরু সুতোয় আটকে। যে কোনও মুহূর্তে ফের একবার পুরোদমে শুরু হতে পারে যুদ্ধ। ইতিমধ্যেই আরও একবার হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার ঘোষণা করেছে ইরান। তবে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ছক কষেই চলেছে ইরান। নয়া পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেল ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার শুল্ক আরোপ করার প্ল্যান করছে তেহরান।
তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ইরান চাইছে এই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পরিশোধ করা হোক। অর্থাৎ ডলারে টাকা নিতে চাইছে না ইরান।
এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও, ইরানের একাধিক শর্ত নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। ইরান হরমুজের উপর আধিপত্য ছাড়তে নারাজ। হরমুজ ফের অবরুদ্ধ করে দিয়েছে ইরানি সেনা। এমতাবস্থায় ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের একটি রিপোর্ট অনুসারে, ইরান তেল ও গ্যাস রফতানিতে সম্মতি জানিয়ে বলেছে, এখন থেকে এই রুটে যাওয়া সব জাহাজে তল্লাশি চালানোর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
হরমুজে আটকে বহু জাহাজ
হরমুজ ও সংলগ্ন এলাকায় বর্তমান পরিস্থিতি ভয়াবহ। একাধিক রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, জাহাজগুলোকে রেডিওর মাধ্যমে ক্রমাগত সতর্ক করা হচ্ছে, অনুমতি ছাড়া বা টোল পরিশোধ না করে কেউ সমুদ্র পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেই জাহাজের উপর হামলা হতে পারে। এই কঠোর বিধিনিষেধের ফলে পারস্য উপসাগরে প্রায় ৪০০টি জাহাজ লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী কার্যত একটি পার্কিং লটের মতো হয়ে গিয়েছে। যেখানে লক্ষ লক্ষ ব্যারেল তেল আটকে আছে।
ইরান কি টোল নীতিতে অটল থাকবে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ খোলা রাখে, তবেই তাদের সঙ্গে কোনও চুক্তি হতে পারে। এদিকে, ওমানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো ইরানের এই টোল আরোপের ধারণার সমালোচনা করে যুক্তি দিচ্ছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই রুটে কোনও শুল্ক আরোপ করা যায় না। এখন দেখার বিষয়, ইরান তার অবস্থানে অটল থাকবে, নাকি মার্কিন চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে।