
Iran Vs USA Naval Conflict 2026: যুদ্ধের দামামা বাজছে পারস্য উপসাগরে। আমেরিকার সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যেতেই তেহরানের তূণ থেকে বেরিয়ে এল এক ভয়ঙ্কর অস্ত্র। নাম তার ‘হুত’ (Hoot)। পার্সি ভাষায় যার অর্থ ‘তিমি’। ইরানের নৌসেনা প্রধান শাহরাম ইরানির হুঁশিয়ারি, শত্রুপক্ষের ঠিক পাশেই মোতায়েন করা আছে এই নতুন মারণাস্ত্র। তাঁর দাবি, এটি এতটাই শক্তিশালী যে শত্রুদের হার্ট অ্যাটাক হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা।
জলের নীচে আগুনে গতি
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই গোপন অস্ত্র আসলে একটি ‘সুপার-ক্যাভিটেটিং’ রকেট টর্পেডো। সাধারণ টর্পেডো যেখানে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ১০০ কিমি বেগে চলে, সেখানে ‘হুত’-এর গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৩৬০ কিমি! মূলত রাশিয়ার ‘শ্কভাল’ প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই টর্পেডো পানির নিচে এক অদ্ভুত গ্যাস বুদবুদ তৈরি করে। ফলে পানির বাধা কাটিয়ে এটি বুলেটের গতিতে ছুটে গিয়ে শত্রুর বুক চিরে দিতে পারে। এতে রয়েছে প্রায় ২০০ কেজি ওজনের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক।
লক্ষ্য কি মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার?
প্রশ্ন উঠছে, এই টর্পেডো কি আমেরিকার বিশালকায় যুদ্ধজাহাজ বা আব্রাহাম লিঙ্কন-এর মতো এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ডুবিয়ে দিতে সক্ষম? প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সন্দীপ উন্নিথান জানাচ্ছেন, গতিই এর প্রধান শক্তি হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। প্রথমত, অত্যাধিক গতির কারণে একে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ বা গাইড করা কঠিন। দ্বিতীয়ত, এর পাল্লা মাত্র ১৫ কিমি, যা সাধারণ টর্পেডোর তুলনায় অর্ধেক।
তবে ইরান যে তুরুপের তাসটি হাতে রেখেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। মার্কিন নৌবাহিনীকে রুখতে তেহরান যে এই ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ মিসাইল ব্যবহার করতে দু’বার ভাববে না, তা নৌসেনা প্রধানের কথাতেই স্পষ্ট। হোয়াইট হাউসের নৌ-অবরোধের পাল্টায় ‘হুত’ কি সত্যিই সাগরের সমীকরণ বদলে দেবে? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।