
ইরান আমেরিকা যুদ্ধ নিয়ে বড় আপডেট। যুদ্ধের চতুর্থ দিনে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। সোমবার (স্থানীয় সময়) ইরানি সেনার পক্ষ থেকে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে কোনও ভেসেল গেলেই আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার ইরানি সংবাদমাধ্যমের তরফে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান বনাম ইজরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধের মধ্যে এই হরমুজ প্রণালী বন্ধ গোটা বিশ্বের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বেশিদিন এই প্রণালী বন্ধ থাকলে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-এর এক সিনিয়র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সরদার ইব্রাহিম জাবারি এদিন হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, "হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা হল। যদি কোনও জাহাজ এই প্রণালী পার করার চেষ্টা করে, তাহলে রেভল্যুশনারি গার্ড নৌবাহিনী সেই জাহাজগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেবে।"
উল্লেখ্য বিষয় হল, ইরান আর ওমানের মাঝের সরু জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়েই সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইরান থেকে তেল এবং গ্যাস পারস্য উপসাগরে পৌঁছয়। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে গোটা দুনিয়ায়। ফলে হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বিরাট প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজার বিশেষজ্ঞরা।
WTI ক্রুড অয়েলের দাম এদিন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় ৭২ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছে গিয়েছে। এই দাম গতকালও ছিল ৭০ ডলারের আশেপাশে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়, সেক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চড়চড় করে বেড়ে যেতে পারে অপরিশোধিত তেলের দাম। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিভিন্ন দেশে পেট্রল-ডিজেলের দামের উপরেও।