Advertisement

Iran-Israel War: 'প্রতিবেশী দেশের উপর আর হামলা নয়,' তবে কি দম ফুরিয়ে গেল ইরানের?

Iran Israel war: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে বড় কূটনৈতিক বার্তা দিল তেহরান। প্রতিবেশী দেশগুলির উপর আর হামলা চালানো হবে না; শনিবার এমনই ঘোষণা করলেন মাসৌদ পেজেশকিয়ান(Masoud Pezeshkian)।

ইরান কি যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে?ইরান কি যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 07 Mar 2026,
  • अपडेटेड 2:03 PM IST
  • মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে বড় কূটনৈতিক বার্তা তেহরানের।
  • প্রতিবেশী দেশগুলির উপর আর হামলা চালানো হবে না।
  • শনিবার এমনই ঘোষণা করলেন মাসৌদ পেজেশকিয়ান(Masoud Pezeshkian)।

Iran Israel war: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে বড় কূটনৈতিক বার্তা তেহরানের। প্রতিবেশী দেশগুলির উপর আর হামলা চালানো হবে না; শনিবার এমনই ঘোষণা করলেন মাসৌদ পেজেশকিয়ান(Masoud Pezeshkian)। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক হামলার জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চাইল ইরান। তবে প্রশ্ন উঠছে; এ কি তবে যুদ্ধের শেষের ইঙ্গিত? নাকি কৌশল বদলাচ্ছে তেহরান? টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানের অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে প্রতিবেশী দেশগুলিতে আর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে না। তাঁর কথায়, 'আমরা অন্য কোনও দেশের উপর আক্রমণ করতে চাই না। প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থনা করছি।'

তবে এই ঘোষণার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বড় কৌশলগত বাস্তবতা। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পক্ষে সরাসরি আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানা কার্যত অসম্ভব। ফলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান মূলত লক্ষ্য করেছিল সেই সব দেশকে, যেখানে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক রাষ্ট্রে মার্কিন ঘাঁটি থাকায় সেগুলিই হয়ে উঠেছিল সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু।

কিন্তু এখন ইরান যদি প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে পরিস্থিতি নতুন মোড় নিতে পারে। প্রশ্ন উঠছে; এই ঘোষণার ফলে কি যুদ্ধ থামার পথে? নাকি এটি কেবল সাময়িক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা?

এরই মধ্যে যুদ্ধের আবহ আরও তীব্র করে তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, ইরানকে 'নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ' করতে হবে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তি হবে না যদি না তেহরান সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করে।

এই দাবি সরাসরি নস্যাৎ করেছেন পেজেশকিয়ান। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ইরান কখনওই নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি বলেন, 'আমাদের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের স্বপ্ন যারা দেখছে, সেই স্বপ্নই তাদের কবর পর্যন্ত যাবে।'

এদিকে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান ও Israel। দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার ভোরে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের দিকে ছুটে যেতে দেখা যায় ইজরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। জবাবে তেল আভিভ থেকেও তেহরানের বিভিন্ন অবকাঠামোর উপর হামলা চালানো হয়।

Advertisement

শুধু ইরান বা ইজরায়েল নয়, সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে। ইজরায়েল ইতিমধ্যেই Lebanon-এ একাধিক হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, সেখানে ইরানপন্থী গোষ্ঠী এবং Hezbollah-এর ঘাঁটি লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে।

যুদ্ধের মানবিক মূল্যও দ্রুত বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূতের দাবি, মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ইতিমধ্যেই এক হাজারের বেশি ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ আহত। অন্যদিকে ইজরায়েলেও প্রাণহানির খবর মিলেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। তেলের দাম বেড়ে গিয়েছে দ্রুত, কারণ পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ Strait of Hormuz দিয়ে তেল পরিবহণ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে যায়।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই; ইরানের এই নতুন ঘোষণায় কি যুদ্ধের ইতি টানার রাস্তা খুলছে? নাকি এটি কেবল নতুন কৌশল, যার ফলে সংঘাত অন্য রূপ নিতে পারে? আপাতত আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের নজর এখন তেহরান, ওয়াশিংটন এবং তেল আভিভের দিকে।

Read more!
Advertisement
Advertisement