
ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে অনিশ্চয়তা কাটেনি এখনও। সীমিত পরিসরে বিমান চলাচল ফের শুরু হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। মঙ্গলবার কিছু রুটে পরিষেবা চালু হলেও, আকাশসীমায় বিধিনিষেধের কারণে একাধিক উড়ান মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে।
ভারত থেকে দুবাইগামী এমিরেটসের দিল্লি, চেন্নাই ও বেঙ্গালুরু-এই তিনটি উড়ানের পরই আঞ্চলিক আকাশসীমা সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার কারণে বিমানবন্দরে ফিরে আসে। তবে মুম্বই থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি উড়ান মাঝআকাশে রুট পরিবর্তন করে শেষ পর্যন্ত দুবাই পৌঁছতে পেরেছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা সতর্কতা ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় রিয়াদগামী একাধিক আন্তর্জাতিক উড়ানও ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আটকে পড়া যাত্রীদের ফেরাতে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। ইন্ডিগো ৩ মার্চ জেড্ডা থেকে ভারতে ১০টি বিশেষ উড়ানের ব্যবস্থা করেছে। এর মধ্যে মুম্বাই, হায়দ্রাবাদ ও আহমেদাবাদগামী কয়েকটি ফ্লাইটের অনুমোদন মিলেছে। যাঁরা আগে টিকিট কেটেও ভ্রমণ করতে পারেননি, তাঁদের ফেরাতেই এই উদ্যোগ। জেড্ডায় ভারতীয় কনস্যুলেটের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আকাসা এয়ারও ৩ ও ৪ মার্চ মুম্বই-জেড্ডা এবং আহমেদাবাদ-জেড্ডা রুটে সীমিত পরিষেবা চালাবে। তবে আবুধাবি, দোহা, কুয়েত ও রিয়াদগামী উড়ান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে উড়ানের অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বৈঠকে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারও হেল্পলাইন ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলে নাগরিকদের সহায়তা করছে।
তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। আকাশসীমা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বড় আকারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।