
ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ। বিশ্বের বেশিরভাগ তেল এই পথ দিয়েই যায়। তেলের দাম এখন ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম গ্যালন প্রতি ৫ ডলারে নেমে এসেছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সবকিছুর দামই বাড়ছে। কলকাতা সহ ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যেই ঝাপ বন্ধ হচ্ছে রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকানগুলির। জ্বালানি, গ্যাস সঙ্কটের পর কি দেশে ফের কোভিডের মতো লকডাউন পরিস্থিতি ফিরবে?
দোকানে সব সবজিরও দাম বাড়ছে। খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে, কারণ খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার আসে হরমুজ থেকে। কৃষকদের বেশি দাম দিতে হলে এসব সবজির দামও বেড়ে যাবে।
জ্বালানির তুমুল দামবৃদ্ধির কারণে বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে বিমানে ঘোরা ব্যয়বহুল তো হচ্ছেই, সেইসঙ্গে পর্যাপ্ত বিমানও মিলছে না। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স শুধু এই সপ্তাহেই তাদের ৫% ফ্লাইট কমিয়েছে। অন্যান্য দেশের বিমান সংস্থাগুলোও ফ্লাইট সংখ্যা কমাচ্ছে। বিমান ঘোরা আরও ব্যয়বহুল এবং অনিয়মিত হয়ে উঠতে চলেছে। সরকার অপ্রয়োজনে ভ্রমণ কমাতে বলছে। কোভিডের সময়েও একই কথা বলা হয়েছিল – শুধু অত্যাবশকীয় প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি রেশনিং শুরু হয়েছে
অনেক দেশ ইতিমধ্যেই তেল রেশনিং করছে। জাপানে জ্বালানি রেশনিং কার্যকর রয়েছে। জ্বালানি ভাউচার বিতরণ করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়াতেও রেশনিং চলছে। বাংলাদেশ, ফিলিপিন্স ও শ্রীলঙ্কায় পেট্রোলের জন্য দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। অস্ট্রেলীয় সরকার জনগণকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমাতে আহ্বান জানাচ্ছে। ভারতের ৮০ শতাংশ তেল আসে হরমুজ প্রণালী থেকে। ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক সঙ্কটে থাকা পাকিস্তানে তেল সঙ্কটের কারণে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়েছে।
আইইএ পরিকল্পনা
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ‘তেল সংকট থেকে সুরক্ষা’ শীর্ষক একটি ১০-দফা পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এতে সরকারগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে...
আইইএ বলছে, কোভিডের সময়ে এটি যেমন কার্যকর ছিল, এখন জ্বালানি সঙ্কটের সময়েও ঠিক তেমনই। সরকারগুলি একে লকডাউন না বলে জ্বালানি নিরাপত্তা বলবে, কিন্তু এর প্রভাব একই থাকবে: অনুমতি ছাড়া বাড়ি থেকে বের হতে পারবেন না।
কোভিডের সময় সরকার স্বাস্থ্যের নামে লকডাউন জারি করেছিল। এখন জ্বালানির নামেও একই ঘটনা ঘটছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, বাংলাদেশ ও ফিলিপিন্স ইতিমধ্যে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বেড়েছে। বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট কমিয়ে দিচ্ছে। এটা তো সবে শুরু।
এরপর কী ঘটবে, কী করা উচিত?
তেলের দাম আরও বাড়লে পরিবহন, বিমান চলাচল এবং কৃষিকাজ সবই আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। সরকার ধীরে ধীরে রেশনিং এবং খাদ্যে সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে পারে। আইইএ-র এই পরিকল্পনাটি অনেক দেশেই বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি একটি স্থায়ী ব্যবস্থায় পরিণত হতে পারে – একটি ডিজিটাল পারমিট ব্যবস্থা, যেখানে যানবাহন, ভ্রমণ এবং এমনকি বাড়ির সরঞ্জামও নিয়ন্ত্রিত হবে।