Advertisement

Iran War Donald Trump: ইরান যুদ্ধ সম্ভবত নভেম্বরে শেষ হচ্ছে, মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্প হারলে কী ঘটবে?

ফলে নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনের রেজাল্টের উপরে ট্রাম্পের ভবিষ্যত্‍ নির্ভর করছে। এবং জনপ্রিয়তা যে একেবারে নেমে গিয়েছে, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ট্রাম্পও। তাই মিডটার্ম ইলেকশনের আগে যুদ্ধ শেষের বার্তা দেওয়া একটি রাজনৈতিক কৌশল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প - রয়টার্স ফাইল ছবিমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প - রয়টার্স ফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • ওয়াশিংটন ডিসি,
  • 10 Sep 2026,
  • अपडेटेड 9:47 AM IST
  • তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা
  • কেন গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচন?
  • কেন গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচন?

আগামী নভেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় পরীক্ষা। তাঁর জনপ্রিয়তা কতটা, কত মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের উপর বীতশ্রদ্ধ তার প্রমাণ মিলবে নভেম্বরে। ওই মাসেই মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র মিডটার্ম ইলেকশন বা মিডটার্ম ভোট। এই নির্বাচনে যদি মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্পের দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়, তা হলে যে কোনও বিল পাস করানোই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। একইসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দু বছরের কাজে মার্কিন নাগরিকরা কতটা সন্তুষ্ট, তারও ছবিটা স্পষ্ট হয়ে যাবে। আর এই মিডটার্ম ইলেকশনের আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ দাবি করলেন ট্রাম্প। 

ট্রাম্পের বক্তব্য, মিডটার্ম নির্বাচন শেষ হলেই ইরান যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। অর্থাত্‍ নভেম্বরেই ইরান যুদ্ধের ইতি হবে বলে দাবি করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর কথায়, 'আমার মনে হয় নির্বাচন মিটলেই যুদ্ধও থেমে যাবে। ইরান এতদিন টানতে পারবে না।' একইসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে তেহরান প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ ট্রাম্পের। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিল ইরান। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে ইরান এমন এক দুর্বল মার্কিন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ক্ষমতায় আনতে চাইছিল, যারা তেহরানের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না এবং ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সুযোগ করে দেবে। তিনি বলেন, 'ইরানের একমাত্র লক্ষ্য হল পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা। আর ইরানের হাতে যদি পরমাণু অস্ত্র চলে আসে, তাহলে গোটা বিশ্বই বড় বিপদের মুখে পড়বে।'

তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা

ইরান যুদ্ধের সঙ্গে এখন পরমাণু বিষয় ছাপিয়ে আরও অনেক কিছু ইস্যু জড়িয়ে গিয়েছে।  ট্রাম্প বলেন, 'আমি শুধু পরমাণু চুক্তির চেয়েও অনেক বেশি কিছু নিয়ে কাজ করছি। পরমাণু ইস্যুর বাইরেও আরও অনেক বিষয় রয়েছে।' তাঁর দাবি, পরমাণু চুক্তি হওয়া প্রায় নিশ্চিত, ৯৯.৯ শতাংশ। তবে আলোচনার টেবিলে আরও অনেক বিষয় থাকবে। অর্থাত্‍ ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার আগে ফের একাধিক শর্ত চাপানোর ইঙ্গিত দিয়েরাখলেন ট্রাম্প। তিনি আরও জানান, ওয়াশিংটন বর্তমানে তেহরানের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনার চেষ্টা করছে না। তবে ভবিষ্যতে আলোচনা হতে পারে বলেও সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।

Advertisement

হরমুজে আরও হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মার্কিন-ইরান যুদ্ধে অন্যতম বিপজ্জনক কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের আশপাশে জাহাজ লক্ষ্য করে দুই পক্ষই হামলা চালাচ্ছে। ফলে ভারত সহ একাধিক দেশ এই যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও রান্নার গ্যাসের সঙ্কটে ভুগছে। বুধবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালায়। এরপর ইরান দাবি করে, হরমুজ প্রণালীর কাছে তারা ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে হামলা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, 'হামলাগুলি আমরাই চালাচ্ছি। আপনারা আরও অনেক হামলা দেখতে পাবেন।'

৭ মাস হয়ে গেল ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধ চলছে। ইজরায়েলের সঙ্গে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ইরানের, তা এখন আমেরিকা কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। আপাতত যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ নেই। এর মধ্যেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও রেকর্ড নীচে নেমেছে। দীর্ঘস্থায়ী ইরান যুদ্ধ এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন তাই ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হতে চলেছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচন?

মার্কিন প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে এই নির্বাচন হয়। প্রেসিডেন্ট নিজে এই নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও, এর মাধ্যমে কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। ৩ নভেম্বর হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৩৫টি আসনে এবং সেনেটের একটি অংশে ভোট দেবেন মার্কিন নাগরিকরা। কোন দল মার্কন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেবে, তার উপর ট্রাম্পের নীতি ও কর্মসূচি কতটা সহজে বাস্তবায়িত হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে।

রিপাবলিকানরা মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন পাশ করানো, সরকারি অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের কোনও একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ দখল করলে ট্রাম্পের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বাধা বাড়তে পারে এবং প্রশাসনের উপর কংগ্রেসের নজরদারিও আরও জোরদার হতে পারে।

ফলে নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনের রেজাল্টের উপরে ট্রাম্পের ভবিষ্যত্‍ নির্ভর করছে। এবং জনপ্রিয়তা যে একেবারে নেমে গিয়েছে, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ট্রাম্পও। তাই মিডটার্ম ইলেকশনের আগে যুদ্ধ শেষের বার্তা দেওয়া একটি রাজনৈতিক কৌশল। আবার ট্রাম্প হয়তো নিজেও বুঝতে পারছেন, মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ খর্ব হয়ে যাবে নির্বাচনের পরেই, এবং যুদ্ধেরও ইতি হবে।  

Read more!
Advertisement
Advertisement