
কমপক্ষে ২ থেকে ৩ বার হার্ট অ্যাটাক হয়ে গিয়েছে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের। এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন তিব্বতের নির্বাসিত সরকারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লোবসং সাংগে। দিল্লিতে সংবাদসংস্থা ANI-কে এ কথা বলেন তিনি।
লোবসং সাংগের দাবি, 'শি জিনপিং যদি নিজের উত্তরাধিকারীর ঘোষণা করেন তবে চিনে গদি পাল্টে যাবে।' তাঁকে শি জিনপিংয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে লোবসং জবাব দেন, 'উনি বছরে একবার করে তাইওয়ানে গিয়ে মানুষের সঙ্গে দেখা করেন। আমায় কে বলেছে, তা বলব না কিন্তু এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক আমায় জানিয়েছেন, এক ঘণ্টা ধরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। উনি দাবি করেছেন, ৩ বার না হলেও কমপক্ষে ২ বার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে চিনা প্রেসিডেন্টের। সকলেরই মনে থাকা উচিত ৩-৫ সপ্তাহ ধরে গায়েব হয়ে গিয়েছিলেন। তারপর আচমকা আবার প্রকট হয়েছিলেন।'
তিব্বতের নির্বাসিত সরকারের প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রী লোবসং সাংগে চিনা প্রশাসনের পুরনো এক আধিকারিকের সঙ্গে এই নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।
লোবসং বলেন, 'ওঁর (শি জিনপিং) মুখ দেখুন। ফুলে আছে। হাঁটার কায়দা দেখুন। নিশ্চিত হয়ে যাবেন কোনও চাপে রয়েছেন। তবে সেই চাপ তাঁর শরীরে ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলছে। সে কারণেই তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকতে পারে। এ ছাড়াও তাঁর মস্তিষ্কে তৈরি হওয়া মেন্টাল ফাঙ্গাসের কারণেও সাড়া ফেলে দেওয়া তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। এই কারণেই উনি সেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের এক এক করে বরখাস্ত করছেন। এই অফিসারদের উনি নিজে নিযুক্ত করেছিলেন। কিন্তু তাঁরা ধীরে ধীরে গায়েব হয়ে যাচ্ছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীও নিখোঁজ হয়ে গেলেন। এঁদের নিযুক্ত করা হয় তারপর একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর গায়েব করে দেওয়া হয়।'
চিনের অন্দরমহলের খবর ফাঁস করে তিনি আরও বলেন, 'শি জিনপিংয়ের নিরাপত্তাকর্মী এবং সেনাপ্রধান মন্ত্রীদেরও থেকেও বেশি ক্ষমতাশীল। জিনপিং যেন একটা মেঘের আড়ালে অদৃশ্য রয়েছেন।'
লোবসং আরও বলেন, 'উনি রাজার মতো দম্ভ নিয়ে চলেছেন। আশঙ্কা রয়েছে কোনও ক্রাউন পিন্স তাঁকে হত্যা করে তাঁর জায়গা নিয়ে নেবে। কিন্তু উত্তরাধিকারী হিসেবে কাউকে না বসানো হলে শাসনের মেয়াদকাল বাড়ে। কিন্তু এতে দেশ পঙ্গু হয়ে যায়। ক্ষমতার লোভ যাঁদের রয়েছে, তাঁরা লড়াইটা করবেই। দেশে গৃহযুদ্ধও হতে পারে। চিনের ইতিহাসও সে কথাই বলে। আমার মনে হয়, সে কারণেই শি জিনপিং এখও নিজের উত্তরাধিকারী নির্বাচন করেননি।'
কেন নির্বাসিত লোবসং?
তিব্বতের প্রধানমন্ত্রী বাস্তবে সেন্ট্রাল টিবেটিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের রাজনৈতিক মুখপাত্র। বর্তমানে এই পদে রয়েছেন পেম্পা সেরিং। তিনি ভারতের ধর্মশালায় থাকেন।
১৯৫০ সালে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি তিব্বতে আক্রমণ করেছিল। ১৯৫১ সালে চাপে পড়ে ১৭ টি সমঝোতা হয়। এতে তিব্বত চিনের অংশ হয়ে যায়। ১৯৫৯ সালে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহ চলে। চিনা সেনার নিগৃহীত হওয়ার আশঙ্কায় দলাই লামা এবং হাজার হাজার তিব্বতি নাগরিক ভারতে চলে আসে। সেই থেকে নির্বাসিত সরকার ভারতে থেকে কাজ করে। তিব্বকে নিজেদের স্বায়ত্ত ক্ষেত্রে মানা এবং নির্বাসিত সরকারকে মান্যতা দেয় না। ভারতে থেকেই তিব্বতের মানুষ সংঘর্ষ চালিয়ে যাচ্ছে।