
মারাত্মক বোমাবর্ষণের একদিন পরেই নতুন কূটনৈতিক বার্তা দিল বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইজরায়েল। বেইরুট, বেক্কা ও দক্ষিণ লেবাননে ভয়াবহ হামলায় ২৫০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই লেবাননের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন নেতানিয়াহু।
তিনি জানিয়েছেন, লেবাননের পক্ষ থেকে একাধিকবার আলোচনার প্রস্তাব আসার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আলোচনার মূল বিষয় হবে হিজবুল্লা। দুই দেশের মধ্যে শান্তি বজায় রাখার জন্য আলোচনা করতে রাজি তারা, এমনই দাবি করা হয়েছে ইজরায়েলের তরফে।
তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত জটিল। কারণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান এখনও তেমন কোনও প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহেও বড়সড় প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে লেবাননে ইজরায়েলের লাগাতার হামলা আলোচনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, লেবাননের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, আলোচনা শুরুর আগে যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, ইজরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় আমেরিকাকে গ্যারান্টর হিসেবে চাইছে বেইরুট। তবে এখনও পর্যন্ত আলোচনার দিনক্ষণ বা স্থান নির্ধারিত হয়নি। প্রাথমিকভাবে আমেরিকায় এই বৈঠক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে লেবাননের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনও আলোচনা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, 'প্রথমে যুদ্ধ থামাতে হবে, তারপরই সরাসরি আলোচনা হতে পারে।'
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে এই সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। লেবাননের দাবি, ইজরায়েলি হামলায় প্রায় ১,৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। অন্যদিকে, অন্তত ৪০০ হিজবোল্লা জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, সংঘাতের মধ্যেই কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত মিললেও, যুদ্ধবিরতি ও পারস্পরিক আস্থার অভাবে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।