Advertisement

Donald Trump and Giorgia Meloni: 'মেলোনি আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন', ট্রাম্পের দাবিতে ক্ষুব্ধ ইতালি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছেন। যদিও এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ইতালি। তারা ট্রাম্পকে পাল্টা দিয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জর্জিয়া মেলোনি (প্রতীকী ছবি)ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জর্জিয়া মেলোনি (প্রতীকী ছবি)
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 20 Jun 2026,
  • अपडेटेड 9:22 AM IST
  • ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছেন
  • যদিও এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ইতালি
  • তারা ট্রাম্পকে পাল্টা দিয়েছে

হঠাৎই উত্তপ্ত ইতালি এবং আমেরিকার সম্পর্ক। ইউএস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জি-৭ সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য 'অনুরোধ করেছিলেন'। আর ট্রাম্পের এই দাবির বিরুদ্ধে শুক্রবার তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ইতালি। 


ইতালির বিদেশমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি এই মন্তব্যকে মেলোনি এবং ইতালির প্রতি 'গুরুতর ও অপমানজনক' বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি সপ্তাহান্তে নিজের আমেরিকার কর্মসূচি বাতিল করেছেন তিনি। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তোও ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করেন।

ও দিকে মেলোনিও একটি ভিডিও বার্তায় ট্রাম্পের দাবি সরাসরি খারিজ করে দেন। তিনি জানান, এই মন্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া। পাশাপাশি তিনি কড়া সুরে যোগ করেন, 'ইতালি এবং আমি কারও কাছে ভিক্ষা চাই না।'

শুক্রবার সকালে ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা৭-এ সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। লা৭-এর দাবি, তাদের সাংবাদিক ইউক্রেন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলেও ট্রাম্প নিজে থেকেই মেলোনির প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি আগ বাড়িয়ে জি-৭ সম্মেলনে তাঁদের সাক্ষাৎ নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন।

প্রসঙ্গত, ফ্রান্সের এভিয়াঁ-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি ও ট্রাম্পকে একাধিকবার আলাপচারিতায় দেখা গিয়েছিল। এক পর্যায়ে তাঁরা একটি ছোট সোফায় বসেও কথা বলেন। লা৭-এর মতে, ট্রাম্প দাবি করেন যে মেলোনি তাঁর কাছে ছবি তোলার সুযোগের জন্য 'অনুরোধ' করেছিলেন। তিনি আরও জানান, এমনটা করতে তিনি বাধ্য ছিলেন না। কিন্তু মেলোনির জন্য 'খারাপ লেগেছিল' বলে রাজি হয়েছিলেন। তবে চ্যানেলটি মূল ইংরেজি অডিও প্রকাশ না করে ডাব করা সংস্করণ অনলাইনে প্রকাশ করেছে।

এর জবাবে মেলোনি ভিডিও বার্তায় বলেন, 'কিছু বিষয়ের তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া প্রয়োজন বলেই আমি প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া। আমি সত্যিই বিস্মিত। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কেন নিজের মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, তা আমি বুঝতে পারছি না। অবশ্য এটা প্রথমবার নয়।'

তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকে ট্রাম্পের এপ্রিল মাসে ইতালির দৈনিক কোরিয়েরে দেলা সেরা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ হিসেবে দেখছেন। সেই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধকে সমর্থন না করায় মেলোনির সমালোচনা করেছিলেন। তখন অবশ্য মেলোনি প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানাননি।

Advertisement

শুক্রবার তিনি আরও বলেন, 'আমি শুধু বলতে পারি, এটা দুঃখজনক যে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুদের, যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের বিরুদ্ধে একই দৃঢ়তা দেখান না। বরং যেসব নেতার প্রতি তিনি অনেক বেশি নমনীয়, তাঁদের ক্ষেত্রেই সেটা দেখা যায়। তবে একটি বিষয় তাঁর মনে রাখা উচিত—ইতালি এবং আমি কারও কাছে ভিক্ষা চাই না।'

ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মেলোনি আমেরিকা-ইতালি সম্পর্ক আরও মজবুত করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি নিজেকে ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি 'সেতুবন্ধন' হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। ট্রাম্পের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত একমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের সরকারপ্রধানও ছিলেন তিনি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতি, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অবস্থান, মার্কিন শুল্কনীতি এবং গাজায় ইজরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের  সমর্থনের কারণে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement