
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। তাঁর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে। এই সফরের দিকে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।
রওনা দেওয়ার আগে ভ্যান্স বলেন, 'আমরা আলোচনার জন্য অপেক্ষা করছি। আমার মনে হচ্ছে এটি ইতিবাচক হবে।' যদিও তিনি সতর্ক করে দেন, যদি ইরান আলোচনায় কৌশলগত খেলা খেলে, তাহলে আমেরিকা তা সহজভাবে নেবে না। তাঁর কথায়, 'যদি তারা সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় আসে, আমরা অবশ্যই হাত বাড়াব। কিন্তু তা না হলে আমাদের অবস্থান কঠোর হবে।'
এই আলোচনা দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ১৯৭৯ সালের Iranian Revolution-এর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত সীমিত ছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৩ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির মধ্যে ফোনালাপ হয়েছিল।
এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে ভ্যান্সের সঙ্গে রয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্তা। তাঁদের উপস্থিতি থেকেই স্পষ্ট, ওয়াশিংটন এই আলোচনাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে এই সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার মাঝেও উত্তেজনা কমেনি। ইরান দাবি করেছে, লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ করা এই সমঝোতার অংশ। কিন্তু ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন এবং ট্রাম্প প্রশাসন তা অস্বীকার করেছে। ফলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে মতবিরোধ আরও প্রকট হয়েছে।
অন্যদিকে, আমেরিকা ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়েছে। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ইরানের পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, তারা চুক্তি মানতে ব্যর্থ হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আন্না কেলি আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন সবসময় আমেরিকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সফল চুক্তি করতে সক্ষম। তিনি বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন একটি চুক্তিই গ্রহণ করবেন যা আমেরিকার জন্য সর্বোত্তম।'
এই পরিস্থিতিতে ভ্যান্সের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তুলনামূলকভাবে কম অভিজ্ঞ হলেও তিনি এখন একটি বড় কূটনৈতিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্টকে সরাসরি যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনায় পাঠানো বিরল ঘটনা।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদের এই আলোচনা শুধু একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির দিকেই নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আদৌ কতটা ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।