
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে আজ অর্থাত্ ২১ জুলাই দিন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি এ বার আল্টিমেটাম দিয়ে দিল ইসলামাবাদকে। জানিয়ে দিল, ২১ জুলাইয়ের মধ্যে যদি তাদের দাবি পাক সরকার না মানে, তা হলে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়বে। যার নির্যাস, পাক অধিকৃত কাশ্মীর একপ্রকাশ বিদ্রোহ ঘোষণা করে দিয়েছে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে।
এদিন রাওয়ালকোটে তীব্র বৃষ্টির মধ্যেই প্রায় দেড় লক্ষ বিক্ষোভকারীর জমায়েত হয়। তাঁরা মুজফ্ফরাবাদ পর্যন্ত লং মার্চের প্রস্তুতিও নিয়ে নিয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের এই বিরাট আন্দোলনের সামনে কি মাথ নত করবেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির?
বিক্ষোভকারীরা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়
পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ব্যাপক দুর্যোগ চলছে। প্রচণ্ড ঝড়, জলকে উপেক্ষা করেই বিক্ষোভকারীরা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। জুন মাসের শুরু থেকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে, অবস্থান ধর্মঘট, বিক্ষোভ এবং গণপরিবহণ, দোকানপাট ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার মতো আন্দোলন চলছে। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে বিক্ষোভকারী এবং স্থানীয় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে কিছু নিরাপত্তা কর্মীসহ ৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ১৪ জুলাই অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে খবর।
পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অব্যাহত হত্যাকাণ্ডের পর রাষ্ট্রসঙ্ঘও হস্তক্ষেপ করেছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সকল মৃত্যুর ঘটনায় একটি 'অবিলম্বে, নিরপেক্ষ তদন্ত' শুরু করার জন্য ইসলামাবাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলি কী কী?
রাওয়ালকোটসহ পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের বেশ কয়েকটি এলাকায় বড় বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর, এই বিক্ষোভে লক্ষ লক্ষ মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। ক্রমশ এই আন্দোলন শুধু মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনৈতিক অধিকার ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিতেও প্রসারিত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলি হল,
স্থানীয় পরিষদে ১২টি সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা বিলোপ করা।
স্থানীয় জনগণের জন্য বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব।
গ্রেফতার করা নেতা ও কর্মীদের মুক্তি।
সুশাসন, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক বিষয়ের উন্নতি।
অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন
বিক্ষোভ মোকাবিলায় ইসলামাবাদে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে পাকিস্তান সরকার। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ২১ জুলাইয়ের এই কর্মসূচিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এটি জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-র ঘোষিত চূড়ান্ত রাজনৈতিক আল্টিমেটামের অংশ। সংগঠনের দাবি, সরকার তাদের দাবি না মানলে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার নিতে পারে। তবে আন্দোলন যে আরও সহিংস হবে, সেই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইসলামাবাদে ৪ হাজারের বেশি রেঞ্জার্স, পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার কোরের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।