
আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেইকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। আর যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যে সেই মোজতবা খামেনেইকে নিয়েই একাধিক জল্পনা চলছে। নতুন খবর অনুযায়ী, মোজতবা খামেনেই রয়েছেন কোমায়। তাঁর একটা পা বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সংবাদটি প্রকাশ করেছে দ্য সান।
মাথায় রাখতে হবে, গতকালই মোজতবা খামেনেইয়ের একটি বিবৃতি প্রকাশ পেয়েছে। সেই বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে হামলা চলবে। কোনও ছাড় নেই। কিন্তু এই ঘোষণার কিছু সময়ের মধ্যেই দ্য সান এই রিপোর্ট সামনে এনেছে।
এই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মোজতবার শরীরের হাল খুবই খারাপ। মোজতবা খামেনেই এখন অত্যন্ত সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছেন। তিনি কোমায় ভর্তি। তাঁকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁকে দেখছেন সেই দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষামন্ত্রী মহম্মদ রেজা জাফারগান্দি। তিনি ইরানের অন্যতম সেরা সার্জেন।
এই রিপোর্টে আর কী জানা যাচ্ছে?
দ্য সানের এই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন মোজতবা। তিনি তেহরানের সিনা ইউনির্ভাসিটি হাসপাতালে ভর্তি। সেখানে সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তার জন্য গোটা একটা বিল্ডিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, মোজতবার একটি পা বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে লিভার এবং পাকস্থলীতেও রয়েছে বিরাট সমস্যা। যদিও, এটা বোঝা যাচ্ছে না কবে এবং কখন মোজতবার উপর হামলা চালান হয়।
এমতাবস্থায় ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভির এক সঞ্চালক দাবি করেন, মোজতবা খামেনেই 'আহত সেনা' বা 'উন্ডেড ওয়ারিয়র'। ইরানের এক সূত্র দ্য সানকে বলেছে, 'তাঁর একটি পা কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর লিভার এবং পাকস্থলীতে ছিদ্র রয়েছে। তিনি সম্ভবত কোমায় রয়েছেন।'
এই রিপোর্টে আরও দাবি করা হয় যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মোজতবা খামেনেইকে লুকিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন। শুধুমাত্র কয়েকজনকেই মোজতবার সঙ্গে দেখা করার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
কতটা শক্তিশালী এই দাবি?
আমেরিকা-ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধ শুরু হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি। আর সেই যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মোজতবাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। মাথায় রাখতে হবে, ৮ মার্চ মোজতবাকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তারপর তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বলে জল্পনা শুরু হয়। কিন্তু সেটাও করেননি তিনি।
যদিও ৫ দিন পর মোজতবার বার্তা আসে। আর সেই বার্তাও পড়ে শোনান এক টিভি সাংবাদিক। যার ফলে মোজতবার কোমায় থাকার দাবি আরও জোরাল হচ্ছে।