
ইউক্রেনের ড্রোন রাশিয়ার মস্কো এবং ক্রিমিয়ার কয়েকটি জায়গায় আঘাত এনেছে বলে অভিযোগ করেছিল ভ্লদিমির পুতিনের প্রশাসন। আর এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই পুতিনের বাসভবনে হামলার একটা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে যে ৬ কেজি বিস্ফোরক বহন করা একটি ড্রোন হামলা চালানোর জন্য এসেছিল। তবে আক্রমণের আগেই সেটা নীচে নামিয়ে ফেলে রাশিয়ার বাহিনী।
আর এই ঘটনার তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি এই অঞ্চলে দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। শুধু তাই নয়, সেই মতো কূটনৈতিক প্রচেষ্ঠা চালানোর পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।
কী বলেন মোদী?
এই বিষয়ে সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন নরেন্দ্র মোদী। তাতে তিনি লেখেন, 'আমি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বাসভবন লক্ষ্য করে হামলায় অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যে কূটনৈতিক প্রয়াস চলছে, সেটা চালিয়ে যেতে হবে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এই প্রচেষ্টা মনোনিবেশ করুন। এই সময় এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া চলবে না যা শান্তি প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দিতে পারে।'
অপরদিকে ইউক্রেন প্রধানমন্ত্রী আবার এই সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি মোদী সহ অন্যান্য দেশের উদ্বেগকেও খারিজ করে দিয়েছেন।
এই বিষয়ে ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এক্স-এ লেখেন, 'প্রায় একদিন কেটে গিয়েছে, অথচ রাশিয়া এখনও পুতিনের বাসভবনে হামলার দাবির পক্ষে কোনও শক্তিশালী এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেনি। আর তারা দিতে পারবেও না। কারণ, এমন কোনও হামলাই যে ঘটেনি।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা এই বিষয়ে হতাশ ও উদ্বিগ্ন যে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ভারত ও পাকিস্তান এমন একটি হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা আদৌ ঘটেইনি।'
যদিও রাশিয়ার মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ দাবি করেন, ইউক্রেন নোভগোরদ অঞ্চলে যা মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মাঝামাঝি অবস্থিত, পুতিনের বাসভবন লক্ষ্য করে ৯১টি ড্রোন হামলা চালায়। তবে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই সব হামলা প্রতিহত করেছে।
মাথায় রাখতে হবে, কয়েকদিন আগেই বৈঠকে বসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। এই বৈঠক হয়েছিল রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ থামনোর জন্যই। আর এমন পরিস্থিতিতে জেলেনেস্কি দাবি করেন, এটি রাশিয়ার একটি পরিকল্পনা। তারা চায় যাতে শান্তি পরিকল্পনা ভেঙে যাক।
যদিও এই হামলায় ইউক্রেনের পক্ষ নেয় ফ্রান্স। তাদের দাবি, এই অভিযোগের সপক্ষে পক্ষে কোনও শক্ত প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।