
Moon New Discovery: চাঁদের গায়ে যে অনেক গহ্বর রয়েছে, তা সবাই জানেন। সেই ম্যাপই ঘাঁটাঘাঁটি করছিলেন নাসার বিজ্ঞানী রবার্ট ওয়াগনার। কম্পিউটারের বড় স্ক্রিন। চাঁদের এই অংশ নিজের পাড়ার মতোই চেনেন সিনিয়র বিজ্ঞানী। আর ঠিক সেই কারণেই ছবিটি দেখে তাঁর কেমন যেন সন্দেহ হয়। দেখেন, চাঁদের পৃষ্ঠের একটি অংশে বড়সড় উজ্জ্বল দাগ। চারপাশে কালো ছোপের মতো। বিষয়টি দেখেই খটকা লাগে নাসার বিজ্ঞানীর। সঙ্গে সঙ্গে অন্য় বিজ্ঞানীদেরও বিষয়টি জানান। ভাল করে খতিয়ে দেখা যায়, এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি গর্ত। শুধু চাঁদেই নয়, এটি সৌরজগতে সদ্য তৈরি হওয়া সবচেয়ে বড় গর্ত, দাবি বিজ্ঞানীদের।
NASA-র প্রকাশিত ছবি:
রবার্ট ওয়াগনার নাসায় ছবি বিশ্লেষণের কাজ করেন। তিনি Intuitive Machines-এর প্রোজেক্টে কাজ করেন। নাসার Lunar Reconnaissance Orbiter Camera বা LROC-এর পাঠানো তথ্য নিয়েই তাঁর কাজ কারবার। চাঁদের বিশাল মানচিত্র নিয়মিত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন। সেই সময়ই তাঁর চোখে পড়ে ওই অস্বাভাবিক দাগ।
বিষয়টি নজরে আসতেই উঠেপড়ে লাগেন ওয়াগনার। সঙ্গে সঙ্গে 'তদন্ত' শুরু করে দেন। চাঁদের ওই এলাকার পুরনো এবং নতুন ছবি পাশাপাশি রেখেও পরীক্ষা করেন। তাতেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। চাঁদের পৃষ্ঠে সম্পূর্ণ নতুন একটি বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই গর্তটির অফিসিয়াল নামও ঠিক হয়ে গিয়েছে। McGetchin ক্রেটার। চাঁদ বিষয়ক প্রখ্যাত গবেষক টম ম্যাকগেটচিনের নামে এই নামকরণ। নাসার চাঁদে মানুষ পাঠানোর মিশনের(অ্যাপোলো) সময় টম আর. ম্যাকগেটচিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৭৯ সালে তাঁর প্রয়াণ হয়। তাঁকে সম্মান জানিয়েই এই নামকরণ।
গর্তটি চাঁদের পূর্ব প্রান্তে তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ২২ মে-র মধ্যে কোনও এক সময়ে এই ঘটনা ঘটে।
কীভাবে এত বড় গর্ত তৈরি হল? বিজ্ঞানীদের অনুমান, কোনও ধূমকেতু অথবা গ্রহাণু চাঁদের মাটিতে প্রচণ্ড গতিতে আছড়ে পড়ে। যে মহাজাগতিক বস্তুটি আছড়ে পড়েছিল, সেটি আকারে তিন থেকে ছয় তলা বাড়ির মতো হতে পারে।
ধাক্কার শক্তি ছিল ভয়ঙ্কর। তার ফলেই চাঁদের মাটিতে প্রায় ৭২৮ ফুট চওড়া গর্ত তৈরি হয়। সহজভাবে বললে, যুবভারতীর যে ফুটবল মাঠ, তার ২ খানা ধরে যাবে এই গর্তের মধ্যে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন বড়সড় আঘাত চাঁদের পৃষ্ঠে খুব ঘন ঘন হয় না। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় এক শতাব্দী বা তারও বেশি সময়ে এক-আধবার এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
এই আবিষ্কারের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে নাসার Lunar Reconnaissance Orbiter মহাকাশযানের। ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মহাকাশযান চাঁদকে প্রদক্ষিণ করছে। এর সঙ্গে রয়েছে সাতটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র। চাঁদের মাটির গঠন, পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য, তাপমাত্রা এবং বিকিরণ পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে সেগুলি।
এই দীর্ঘ সময়ে চাঁদের পৃষ্ঠে অনেক পরিবর্তনও ধরা পড়েছে। এই মিশনের সঙ্গে জড়িত বিজ্ঞানীরা এখনও পর্যন্ত অন্তত ১,০০০টি নতুন আঘাতের গর্ত শনাক্ত করেছেন।
চাঁদের পৃষ্ঠ যে এখনও পুরোপুরি স্থির নয়, নতুন এই আবিষ্কারে তা আরও একবার প্রমাণিত হল। মহাকাশ থেকে আসা ছোট-বড় বস্তু নিয়মিত চাঁদের মাটিতে আঘাত করে। তার ফলে বদলে যায় চাঁদের পৃষ্ঠ। সেই পরিবর্তনেরই একটি বড় উদাহরণ হয়ে এই McGetchin crater।
Science Advances জার্নালে এই আবিষ্কারের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের কাছে এই ধরনের নতুন গর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমে চাঁদের পৃষ্ঠে মহাজাগতিক বস্তুর আঘাতের হার এবং সেই আঘাতে কী ধরনের পরিবর্তন হয়, তা আরও ভালভাবে বোঝা সম্ভব।