
ভয়াবহ সঙ্কটের মুখে নেপাল। হড়পা বানে মৃত এবং নিখোঁজের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ২,৫০০ জন নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে।
আর দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ফের নেপালে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সেই দেশের বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, বিপজ্জনক ভোটে কোশি নদী এলাকায় ফের কাদা মেশানো জলের স্তর বাড়ছে। তাই ভোটে কোশি ও ত্রিশূলী এলাকার বাসিন্দা এবং উদ্ধারকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বাড়ছে মৃতের সংখ্যা
নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। শুক্রবার নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ প্রায় ২,৫০০ জন। তারা আরও জানিয়েছে, রাসুয়া সহ মধ্য নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধার কাজ চলছে।
পুলিশের আরও দাবি, দুর্গম পার্বত্য এলাকাগুলি থেকে একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে। যার ফলে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এর আগে মৃতের সংখ্যা ৪৬৯, ৫৩৮ এবং ৫৪৭ বলে জানানো হয়েছিল। তবে সেটাই এখন ৫৭৯ জনে পৌঁছে গিয়েছে। তবে রেড ক্রস জানিয়েছে, এই বিপর্যয়ে ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
নিখোঁজ ৩২০ ভারতীয়
নেপাল ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। তাই সেখানে ভারতীয়দের যাতায়াত লেগেই থাকে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, হড়পা বানের কারণে ৩২০ জন ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১০০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
যদিও কয়েকটা ভাল খবরও দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। তারা জানিয়েছে, তিব্বতের দিকে থাকা প্রায় ৪০০ ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তাঁরা সকলেই নিরাপদে রয়েছেন। এছাড়া তিব্বত সীমান্তের কাছে আটকে থাকা ৯৬ জন ভারতীয় নেপালে ঢুকতে পেরেছেন।
ত্রাণ পাঠিয়েছে ভারত
এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। ইতিমধ্যেই নেপালে দুই দফায় ত্রাণসামগ্রী পাঠান হয়েছে।
ভেঙে পড়েছে প্রচুর ব্রিজ
জানা গিয়েছে, উদ্ধার কাজ দ্রুত গতিতে করে যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে ব্রিজ ভেঙে যাওয়া। ভয়াবহ বন্যায় তিন ডজনেরও বেশি ব্রিজ ভেসে গিয়েছে। এর ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বহু এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নেপাল ভারত ও চিনের কাছে ৪২টি বেইলি ব্রিজ তৈরির জন্য সাহায্য চেয়েছে। এই ধরনের সেতু দ্রুত তৈরি করা যায়। তাছাড়া ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম হয়। তাই বিপর্যস্ত এলাকাগুলির জন্য এগুলি উপযোগী।