
হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপাল। যার ফলে নেপাল ও তীব্বত সীমান্তে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯২। এখনও নিখোঁজ ১,৪৬৮ জন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে রাস্তা। ভেঙে পড়েছে সেতু। এছাড়া সব জায়গায় কাদা। যার ফলে উদ্ধারকাজ চালাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ নেমে আসে। তারপরই ভয়াবহ হড়পা বান দেখা দেয়। তাতে জল, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। একের পর এক শহর ও গ্রাম তছনছ হয়ে যায়। ঘরবাড়ি, গাড়ি, রাস্তা, ব্রিজ, সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায় প্রবল জলস্রোত।
যতদূর খবর, রাসুয়া এবং নুয়াকোটের একাধিক এলাকা পুরু কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েছে। একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত। কয়েকটি গ্রাম কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তা ও ব্রিজ ভেসে যাওয়ায় দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছতে সমস্যায় পড়ছেন উদ্ধারকারীরা।
উদ্ধারকারীরা এখনও জীবিতদের খোঁজ চালাচ্ছেন। সেই সঙ্গে মৃতদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। কিন্তু বিপদ এখনও কাটেনি। ভোতে কোশি নদীর উৎসের কাছে নতুন করে একটি বেরিয়ার লেক বা হ্রদ তৈরি হয়েছে। সেটি ভেঙে গেলে ফের প্রবল জলস্রোত নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মৃত ৩৯২, নিখোঁজ ১,৪৬৮
যতদূর খবর, এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ৩৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৮৯ জন নেপালের মানুষ। ৩ জন তিব্বতের বাসিন্দা।
নেপাল পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, হেলিকপ্টারে ৫০ জন বিদেশি সহ মোট ৭৯৬ জনকে বিপজ্জনক এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ৭৯৬ জনকে স্থলপথে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
নেপাল কর্তৃপক্ষের হিসেব অনুযায়ী, সে দেশে এখনও ৯১০ জন নিখোঁজ। অন্যদিকে তিব্বতের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সেখানে ৫৫৮ জনের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৪৬৮।
নেপালের নিরাপত্তাবাহিনী বিপর্যস্ত জেলাগুলি থেকে ৮০০-র বেশি মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে। হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং স্থলপথে উদ্ধারকারী দল একাধিক এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে।
নেপাল পুলিশের দাবি, চিতওয়ান থেকে সবচেয়ে বেশি, ১৩৭টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, গোর্খা, তানাহুন এবং নওয়ালপরাসি থেকেও মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
২৯০ ভারতীয়ের খোঁজ নেই
এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর তৎপর হতে দেখা গিয়েছে ভারতকে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, নেপালে থাকা ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে যোগযোগ স্থাপনের চেষ্টা চলছে।
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, নেপালে বন্যাকবলিত এলাকায় আটকে পড়া ভারতীয়দের জন্য জরুরি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কাঠমান্ডু ও বেজিংয়ে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতদের ভার্চুয়ালি যুক্ত করে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হয়েছে।
নেপাল সরকার, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক, রাজ্য সরকার, ট্যুর অপারেটর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বিদেশ মন্ত্রক।
ওদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তিনি নেপালকে সব ধরনের মানবিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
এখনও পর্যন্ত ৮৪ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬৩ জন ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন এবং ২১ জন তামিলনাড়ুর বাসিন্দা।
তিব্বতের দিকে থাকা প্রায় ২০০ জন ভারতীয় নাগরিকও তাঁদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য সাহায্য চেয়েছেন। তাঁদের কয়েকজন ইতিমধ্যেই নেপালের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভারতীয়দের খোঁজ এবং উদ্ধারে সহায়তার জন্য বিদেশ মন্ত্রক ২৪ ঘণ্টার একটি কন্ট্রোল রুমও চালু করেছে।