
পাকিস্তানে ইরান ও আমেরিকার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ফের উত্তেজনা বাড়ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে ইরানের হুঁশিয়ারি, যদি তাদের উপর হামলা চালানো হয় বা আমেরিকা কোনও পদক্ষেপ করে তাহলে তারাও ছেড়ে কথা বলবে না। পারস্য উপসাগরের আশপাশের দেশের বন্দরগুলিতে হামলা চালানো হবে।
আমেরিকা ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলিতে প্রবেশ বা সেখান থেকে বেরোনো সব দেশের জাহাজ আটকে দেওয়া হবে। ইরানের সেনা ও রেভলিউশনারি গার্ড জানিয়েছে, 'পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের নিরাপত্তা সবার জন্য। নয়তো কারও জন্যই নয়।' তাদের আরও হুঁশিয়ারি, 'এই অঞ্চলের কোনও বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।'
আমেরিকার প্রশাসন জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (ইরানে বিকেল ৫:৩০) থেকে এই অবরোধ শুরু হবে। তবে ইরানের বাইরের বন্দরগুলির মধ্যে চলাচলকারী জাহাজগুলি এখনও হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে। এই ঘোষণার পর থেকেই ওই অঞ্চলে জল জাহাজ চলাচলে প্রভাব পড়েছে। সংঘর্ষের আগে প্রতিদিন যেখানে ১০০–১৩৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত, সেখানে যুদ্ধবিরতির পর তা নেমে এসেছে মাত্র ৪০টির কিছু বেশি।
ব্যর্থ ইরান-আমেরিকা বৈঠকের পর অবরোধের সিদ্ধান্ত
পাকিস্তানে হওয়া উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরই আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স জানান, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত চুক্তি মানতে অস্বীকার করায় আলোচনা ভেঙে যায়। অন্যদিকে, ইরান মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার ক্ষতিপূরণ ও জব্দ সম্পদ মুক্তির দাবি তোলে।
এরপর ইরানের নেতারা পাল্টা কড়া বার্তা দেন। সেই দেশের সংসদের স্পিকার সাফ জানিয়ে দেন আমেরিকা লড়াই করলে তাঁরাও করবেন।
ইরান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী নিরাপদ ও সুরক্ষিত আছে। তাদেরই নিয়ন্ত্রণে এখন।
অর্থনীতিতে বড় প্রভাবের আশঙ্কা
এদিকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করলে জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি করেছে, যার অনেকটাই 'ডার্ক' ট্রানজিটের মাধ্যমে হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অবরোধের ঘোষণার পরই তেলের দাম বাড়তেও শুরু করেছে। আমেরিকার ক্রুড তেল ৮% বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৪.২৪ ডলার এবং ব্রেন্ট ক্রুড ৭% বেড়ে ১০২.২৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা সংঘর্ষের আগে ছিল প্রায় ৭০ ডলার।