
২ মে ২০১১ সাল। পৃথিবীর ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেদিনই দুনিয়ার মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি ওসামা বিন লাদেনকে খতম করে আমেরিকা। সেই মৃত্যু নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। ঘটনার পর কেটে গিয়েছে ১৫ বছর। তবে সম্প্রতি সামনে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে সেই খবর প্রকাশিত হয়েছে।
সেই প্রতিবেদন অনুসারে অ্যাবোটাবাদের যে বাড়িতে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল, সেখান থেকে যে কোনও দিন চলে যেতে পারত লাদেন। তেমনই পরিকল্পনা ছিল তার। আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা CIA-র দেওয়া তথ্য অনুসারে, লাদেন সেই কম্পাউন্ড থেকে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। যদি এই অভিযানে কয়েকদিন দেরি হত, তাহলে ঘটনাপ্রবাহ সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারত।
সরকারি নথি অনুযায়ী, আমেরিকার ওই অভিযানের কয়েক মাস আগেই লাদেন অ্যাবোটাবাদের ওই আস্তানা ছাড়ার পরিকল্পনা করছিল। কারণ তাকে যারা আশ্রয় দিয়েছিল, তারা চায়নি লাদেন ওখানে থাকুক। কারণ এতে তাদের ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়ছিল। পুলিশের নজরে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
CIA ওই বাড়ি থেকে যে নথি উদ্ধার করেছিল তা থেকে জানা যায়, যে দুই ভাই লাদেনকে আশ্রয় দিয়েছিল, তারা ক্রমাগত তাকে ওই জায়গা ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। ১৪ জানুয়ারি ২০১১-তে লাদেন একটি চিঠিতে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে সায় দেয়। সে স্বীকার করে নেয়, তার জন্য ওই দুই ভাইকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। তাদের ধন্যবাদও জানায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসকারী।
প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে জায়গা বদলানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু, মে মাসে আমেরিকা লাদেনকে ধরে নেয়। অর্থাৎ আর কয়েক মাস দেরি হলেই হয়তো আর লাদেনের নাগালই পেত না ওবামা প্রশাসন।
আমেরিকার কাছে তথ্য ছিল না
সিআইএ জানিয়েছে, সেই সময় আমেরিকার গোয়েন্দাদের কাছে লাদেনের আস্তানা বদল করার পরিকল্পনার কোনও তথ্য ছিল না। তারা মনে করেছিল, সব কিছু স্বাভাবিক। লাদেন অ্যাবোটাবাদের ওই বিশাল বাড়িতেই আত্মগোপন করে থাকবে।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরের সেই হামলার পর থেকেই লাদেনকে খুঁজছিল আমেরিকা। ১০ বছরের প্রচেষ্টার পর ২০১০ সালের অগাস্টে তার ওই অ্যাবোটাবাদের আস্তানার খবর পায় আমেরিকা। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর ২০১১ সালের ২৯ এপ্রিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অভিযানের অনুমোদন দেন।