
রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ আবারও তীব্র রূপ নিল। এক রাতেই ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলিকে লক্ষ্য করে রাশিয়া ব্যাপক আকাশ হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দাবি, ২৪ ও ২৫ এপ্রিলের মাঝরাতে এই হামলায় ৪৭টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬১৯টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সন্ধে ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে মোট ৬৬৬টি আকাশ হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে ছিল ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ইস্কান্দার-এম ও এস-৪০০), ২৯টি খ-১০১ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ৫টি ক্যালিবর ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিপুল সংখ্যক ড্রোন। এই ড্রোনগুলোর বড় অংশই ছিল ইরানের ‘শাহেদ’ ধরনের কামিকাজে ড্রোন, যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেই বিস্ফোরণ ঘটায়।
তবে ইউক্রেন দাবি করেছে, তাদের শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জেরে এই হামলার বড় অংশ প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। মোট ৬১০টি লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫৮০টি ড্রোন। বিশেষ করে ২৬টি খ-১০১ এবং ৪টি ক্যালিবর ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ভূপাতিত করায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে।
তবুও সম্পূর্ণভাবে হামলা ঠেকানো যায়নি। অন্তত ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৬টি ড্রোন লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম হয়েছে, যা দেশের ২৩টি পৃথক স্থানে আঘাত হেনেছে। এছাড়া ধ্বংস হওয়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আরও কয়েকটি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ চলছে।
এই হামলায় রাশিয়া স্থল, সমুদ্র ও আকাশ, তিন দিক থেকেই আক্রমণ চালায়। মিলেরোভো, কুরস্ক ও ব্রায়ানস্কসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়, পাশাপাশি কাস্পিয়ান সাগর ও ক্রিমিয়া থেকেও হামলা চালানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়া এখন আরও সমন্বিত ও বহুমুখী সামরিক কৌশল গ্রহণ করছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।