Advertisement

চিনের 'উইচ্যাট'-এ ঝুঁকল পাকিস্তান সেনাবাহিনী, 'হোয়াটসঅ্যাপ' ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ইসলামাবাদের

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সবস্তরের কর্মীদের সরকারি ও অপারেশনাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে উইচ্যাট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ।

চিনের অ্যাপে আস্থা পাকিস্তানের চিনের অ্যাপে আস্থা পাকিস্তানের
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 04 Aug 2026,
  • अपडेटेड 3:20 PM IST
  • নির্দেশ অনুযায়ী, ধাপে ধাপে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে উইচ্যাটকে সরকারি যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে হবে
  • এই পদক্ষেপকে শুধু একটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন হিসেবে নয়, বরং পাকিস্তান ও চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও ডিজিটাল সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবেও দেখা হচ্ছে

চিনের উপর আরও নির্ভরশীলতা বাড়াচ্ছে পাকিস্তান। তারা কৌশলগত এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পাচ্ছে শি জিনপিংয়ের দেশ থেকে। তারই নতুন ইঙ্গিত মিলল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের সমস্ত অফিসার, সেনাকর্মী এবং প্রশাসনিক কর্মীদের মেটা-র মালিকানাধীন জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। পরিবর্তে, সরকারি এবং সামরিক যোগাযোগের জন্য চিনের জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম উইচ্যাট ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

সাম্প্রতিক একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকায় এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, ধাপে ধাপে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে উইচ্যাটকে সরকারি যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এই পদক্ষেপকে শুধু একটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন হিসেবে নয়, বরং পাকিস্তান ও চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও ডিজিটাল সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সবস্তরের কর্মীদের সরকারি ও অপারেশনাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে উইচ্যাট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ। পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, পশ্চিমা প্রযুক্তি সংস্থাগুলির তৈরি যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলে নজরদারি, তথ্য ফাঁস কিংবা সংবেদনশীল সামরিক তথ্য আটকানোর ঝুঁকি থেকে যেতে পারে। সেই কারণেই তারা চিনা প্ল্যাটফর্মের উপর বেশি আস্থা দেখাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উইচ্যাটে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত শুধু একটি অ্যাপ বদলের ঘটনা নয়। এর মাধ্যমে পাকিস্তান ও চিনের সামরিক বাহিনীর ডিজিটাল পরিকাঠামোকে আরও কাছাকাছি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করলে যৌথ সামরিক মহড়া, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন কৌশলগত সমন্বয় আরও সহজ ও দ্রুত করা সম্ভব হবে।

গত কয়েক বছরে পাকিস্তান ও চিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। একসময় এই সহযোগিতা মূলত যুদ্ধবিমান, নৌবাহিনীর ফ্রিগেট, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে। দুই দেশ এখন যৌথ সাইবার সক্ষমতা গড়ে তোলা, অভিন্ন যোগাযোগ প্রোটোকল তৈরি, নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার মতো ক্ষেত্রেও একসঙ্গে কাজ করছে।

Advertisement

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধার জন্য নেওয়া হয়নি, এর মধ্যে স্পষ্ট কূটনৈতিক ও কৌশলগত বার্তাও রয়েছে। পশ্চিমা প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের উপর নির্ভরতা কমিয়ে চিনের ডিজিটাল পরিকাঠামোর উপর নির্ভরতা বাড়ানোর মাধ্যমে ইসলামাবাদ কার্যত বেজিংয়ের সঙ্গে তাদের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করছে। এর ফলে ভবিষ্যতে দুই দেশের সামরিক যোগাযোগ, যৌথ অভিযান এবং গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে।

Read more!
Advertisement
Advertisement