
পাকিস্তান থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ উমরাহ ও কাজের জন্য সৌদি আরবে যান। তবে, সেখানে কিছু পাকিস্তানি নাগরিকের ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৬ সালের জুন মাসে রিয়াধে ভিক্ষা করার অভিযোগে পাকিস্তানি নাগরিকদের গ্রেফতারও করা হয়েছিল। এ বার সৌদি আরবে অবস্থিত পাকিস্তানি দূতাবাস এই ধরনের কার্যকলাপের বিষয়ে তাদের নাগরিকদের বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে।
ভিখারিদের বার্তা পাকিস্তানের
একটি ভিডিও বার্তায় পাকিস্তান দূতাবাস সৌদি আরবে সফররত উমরাহ তীর্থযাত্রী ও কর্মীদের ভিক্ষাবৃত্তি বা এ জাতীয় কোনও কার্যকলাপে জড়িত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। দূতাবাস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর লঙ্ঘন করলে সৌদি কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে।
গ্রেফতার থেকে নির্বাসন পর্যন্ত বিভিন্ন সতর্কতা
দূতাবাসের মতে, অবৈধ ভিক্ষাবৃত্তির ফলে গ্রেফতার, নির্বাসন এবং ভবিষ্যতে সৌদি আরবে পুনরায় প্রবেশের উপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হতে পারে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সব ধরনের ভিক্ষাবৃত্তিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং বিদেশি নাগরিকদের সাজা শেষ হওয়ার পর নির্বাসিত করা হবে। পাকিস্তান দূতাবাস হারামাইনের পবিত্র স্থানগুলিতে কিছু নির্দিষ্ট কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হুইলচেয়ার পরিষেবা প্রদান, চুল কাটা বা নাপিতের পরিষেবা, অনুদান বা আর্থিক সহায়তা বিতরণ, অর্থ বিনিময় এবং অর্থ ধার দেওয়া।
পাকিস্তানের ভাবমূর্তি নষ্ট না করার আবেদন
দূতাবাস তার নাগরিকদের সৌদি আরবের আইন সম্পূর্ণরূপে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, একজন দায়িত্বশীল পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে অবৈধ কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য। দূতাবাস এটিকে পাকিস্তানের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি বজায় রাখার সাথেও যুক্ত করেছে এবং বলেছে যে সৌদি আইন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বস্তুত, সৌদি আরবে পাকিস্তানি ভিক্ষুকদের নিয়ে বহু দিন ধরেই নানা বিতর্ক। সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তি বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। গত বছরের ডিসেম্বরেই প্রায় ৫০ হাজার পাকিস্তানি ভিখারিকে ফেরত পাঠিয়েছিল সৌদি সরকার। পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এফআইএ (FIA) অবশ্য দাবি করে, তারা এই চক্র ভাঙতে চেষ্টা করছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে সংগঠিত ভিক্ষুক চক্রগুলির বিদেশযাত্রা আটকাতে ৬৬ হাজার ১৫৪ জন যাত্রীকে বিমান থেকেই নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।