Advertisement

PoK Blockade: PoK-এর বাসিন্দাদের না খাইয়ে মারার প্ল্যান পাকিস্তানের, ঠিক কী পরিস্থিতি?

PoK-এর বিক্ষোভ ঠেকাতে নয়া ফন্দি পাক সরকারের। এবার এই অঞ্চলে ওষুধ, খাবার পৌঁছতে দিচ্ছে না পাক সরকার। কিন্তু কেন? জেন নিন।

PoK অবরোধPoK অবরোধ
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 25 Jun 2026,
  • अपडेटेड 9:20 AM IST
  • PoK-এর বিক্ষোভ ঠেকাতে নয়া ফন্দি পাক সরকারের
  • এবার এই অঞ্চলে ওষুধ, খাবার পৌঁছতে দিচ্ছে না পাক সরকার
  • কিন্তু কেন? জেন নিন

আবার জ্বলছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)। এবার সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে ইসলামাবাদ এই অঞ্চলে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের প্রবেশ কমিয়ে দিয়েছে। এভাবেই তারা বিক্ষোভকারীদের চাপে ফেলতে চাইছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা, ট্রাকচালক এবং বিরোধী নেতারা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহন এলাকায় প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে সঙ্কট আরও তীব্র হচ্ছে।

যদিও পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এই অবরোধের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবুও বিবিসি উর্দু, ডন এবং এএফপি-এর প্রতিবেদনে অঞ্চলটিতে বেড়ে চলা সঙ্কটের চিত্র উঠে এসেছে।

আন্দোলনের সূত্রপাত
অশান্তির মূল কারণ হল ওই অঞ্চলের আইনসভায় ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন। এই নিয়েই বিরোধ চলছে। স্থানীয় সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ইসলামাবাদ এই আসনগুলো ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে। সেই সঙ্গে নিজেদের অনুগত সরকার প্রতিষ্ঠা করে।

বিক্ষোভের জবাবে পাকিস্তান সরকার জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি জ্যাক-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। সংঘর্ষে অন্তত ৫৮ জন নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সঙ্কট
জ্যাক-এর ডাকা ধর্মঘট ও অবরোধের কারণে পরিবহণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে বাসিন্দা ও বিরোধী দলগুলোর দাবি, পাকিস্তানের সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। তাতে জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি।

এএফপি-এর মতে, বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও ধর্মঘটের কারণে দৈনন্দিন জীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

রাজধানী মুজাফফরাবাদের ৬৪ বছর বয়সী বাসিন্দা মহম্মদ মাসকিন এএফপি-কে বলেন, 'আমি সর্বত্র ওষুধ খুঁজছি। কিন্তু কোথাও পাচ্ছি না। বড় বড় দোকানও বন্ধ রয়েছে।'

সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক দোকানে খাবার বা অন্যান্য সামগ্রীর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অপর এক বাসিন্দা সাবর হুসেন জানান, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। বাজার বন্ধ এবং খাদ্যসামগ্রী ক্রমেই কমে যাচ্ছে।

Advertisement

জ্বালানির সঙ্কট
পাকিস্তানি সংবাদপত্র ডন জানিয়েছে, পুঞ্চ ও মুজাফফরাবাদ জেলার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেক চালক ব্ল্যাক মার্কেট থেকে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিবিসি উর্দু-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুঞ্চ, রাওয়ালাকোট, বাঘ এবং দুর্গম নীলম উপত্যকাসহ বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।

নীলম জেলার বাসিন্দা আলিফ দীন বলেন, 'আমি ১৫ দিন আগে রেশন ডিপোতে টাকা জমা দিয়েছি। কিন্তু এখনও আটা পাইনি। প্রতিদিন যাই, কিন্তু আমাকে কিছু দেওয়া হয় না।'

তিনি আরও জানান, বাজারে যে সামান্য আটা পাওয়া যাচ্ছে তার দামও অনেক বেড়ে গেছে।


এই সঙ্কটের কারণে অনেক বাসিন্দা পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে আনছেন। ডন-এর মতে, মুজাফফরাবাদের বাসিন্দারা খাদ্য ও জ্বালানি কিনতে পাশের খাইবার পাখতুনখোয়ায় যাচ্ছেন। অন্যদিকে বিবিসি জানিয়েছে, পুঞ্চ, রাওয়ালাকোট, বাঘ ও নীলম উপত্যকার মানুষ রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদ পর্যন্ত গিয়ে আটা, চাল, চিনি, ডাল, ওষুধ ও পেট্রোল কিনছেন।

 

TAGS:
Read more!
Advertisement
Advertisement