
আবার মুখ পুড়ল পাকিস্তানের। অ্যান্টি-ইজরায়েল পোস্ট ডিলিট করতে বাধ্য হলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর অফিসের কড়া প্রতিক্রিয়ার পরই এমনটা করতে বাধ্য হলেন খোয়াজা। যাতে আখেরে মুখ পুড়ল পাকিস্তানের। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা পাকিস্তানের কূটনৈতিক সারেন্ডারের সমান।
আসলে খোয়াজা আসিফ নিজের একটি পোস্টে একটু বেড়ে খেলতে গিয়েছিলেন। সেই পোস্টে তিনি ইজরায়েলকে 'মানবতার অভিশাপ' বলে আক্রমণ করেন। আর এই ঘটনার পর চুপ করে বসে থাকেনি তেল আবিব। তাদের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়।
নেতানিয়াহুর অফিস থেকে এই ধরনের পোস্টকে অপমানজনক বলে জানান হয়। এমনকী এই ধরনের কথাবার্তা যে ইজরায়েল সহ্য করবে না, সেটাও জানিয়ে দেওয়া হয়। আর তাতেই ফের ব্যাকফুটে চলে গেল পাকিস্তান। খোয়াজা নিজের পোস্ট ডিলিট করতে বাধ্য হলেন।
মাথায় রাখতে হবে, ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিরাট লাফালাফি করেছে পাকিস্তান। তাদের মধ্যস্ততাতেই এই যুদ্ধ থেমেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই সময়ই বিতর্কিত পোস্ট করে বসেন খোয়াজা আসিফ। তারপর ইজরায়েলের চাপে পড়ে সেই পোস্ট ডিলিট করতে হয়। আর এই ঘটনাই আবার পরিষ্কার করে দিল যে কোনও রকম শক্তিশালী দেশের বকুনির বিরুদ্ধে কথা বলার ক্ষমতা এখনও তৈরি হয়নি পাকিস্তানের। তাদের মেরুদণ্ড খুবই নরম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পোস্ট আদতে পাকিস্তানকে ব্যাকফুটে ফেলছে। তারা মধ্যস্ততা করার জায়গায় থাকছে না।
আসলে বেশ কিছু দিন ধরেই নিজেদের প্রতিচ্ছবি ঠিক করার চেষ্টায় লেগে রয়েছে পাকিস্তান। তারা চাইছে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে মধ্যস্ততা করতে। তবে এসবের মধ্যেই ভুল চাল দিয়ে ফেললেন খোয়াজা। যার ফলে বেকায়দায় পড়ল পাকিস্তান।
মাথায় রাখতে হবে, পাকিস্তানের রাজনীতিতে বিতর্কিত মুখ খোয়াজা আসিফ। এই কিছুদিন আগেই তিনি কলকাতায় হামলা চালানোর হুমকি দেন। তারপর উত্তাল হয় বাংলা তথা দেশের রাজনীতি। বাংলায় এসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং পাকিস্তানকে পাল্টা হুমকি দেন। এমনকী তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এর বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন।
আর এই ঘটনার পর আবার ইজরায়েল নিয়ে পোস্ট করলেন খোয়াজা। সেই পোস্ট তাকে ডিলিট করে দিতে হল। আর তাতেই বোঝা যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী কূটনীতিতে এখনও অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে পাকিস্তান। বড় কোনও শক্তির সামনে তাদের মাথা নামিয়েই থাকতে হয়।