Advertisement

Pakistan : মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স সক্রিয়, হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে হামলা পাকিস্তানের!

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক গত অগাস্টে ন্যাটোর মতো একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছিল। পরে সেটির নাম দেওয়া হয় 'মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স'। সৌদি আরবে প্রায় ৮ হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Image: AFPImage: AFP
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 08 Oct 2026,
  • अपडेटेड 7:40 PM IST
  • ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে পাকিস্তান
  • একই সঙ্গে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলেছে ইসলামাবাদ।

ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে হামলায় অংশ নিয়েছে  পাকিস্তান। 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স হওয়ার পর সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা আরও বাড়িয়েছে ইসলামাবাদ। এমনকী সৌদি আরবে প্রায় ৮ হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ পাক সামরিক আধিকারিক ওই সংবাদমাধ্যকে জানিয়েছেন, হুথিদের লক্ষ্য করে হামলায় পাকিস্তান এয়ার ফোর্সের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে চলতে থাকা এই সংঘাতে পাকিস্তানের সামরিক অংশগ্রহণ বিশ্বের রাজনৈতিক সমীকরণের ক্ষেত্রে এক তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত। 

গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা আরও বেড়েছে। তার জবাবে রিয়াদও হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় পাকিস্তানের সামরিক উপস্থিতিও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সৌদিতে ইতিমধ্যেই মোতায়েন পাক সেনা

সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন থাকার কথা বুধবার জানিয়েছিল CNN-ও। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মিডিয়া শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী CNN-কে জানান, সৌদিতে পাক সেনা রয়েছে। তবে কতজন সেনা মোতায়েন এবং তাঁদের কী ধরনের সক্ষমতা রয়েছে, তা তিনি জানাননি। মোতায়েন সংক্রান্ত তথ্য গোপনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নিউ ইয়র্ক টাইমসকে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক কর্নেল ডেভিড ও স্মিথ জানিয়েছেন, বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ৮ হাজার পাকিস্তানি সেনা থাকতে পারেন। তিনি পাকিস্তানে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাক্তন অ্যাটাশে এবং মার্কিন ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির প্রাক্তন শীর্ষ বিশ্লেষক। স্মিথের অনুমান অনুযায়ী, এই বাহিনীতে পাকিস্তান এয়ার ফোর্স এবং আর্মি এয়ার ডিফেন্সের সদস্য রয়েছেন। সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিকাঠামোর নিরাপত্তায় তাঁদের ব্যবহার করা হতে পারে।

তবে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি স্থলযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন স্মিথ। কারণ, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাও ইসলামাবাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement

কী এই মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক গত অগাস্টে ন্যাটোর মতো একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছিল। পরে সেটির নাম দেওয়া হয় 'মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স'। চুক্তির মূল নীতি হল, তিন দেশের যে কোনও একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে তিনটি দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এই সপ্তাহেই রিয়াদে তিন দেশের কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির জরুরি বৈঠকের পর চুক্তিটি কার্যকর করার পথে এগিয়েছে তিন দেশ। সৌদির উপর তৈরি হওয়া হুমকির মোকাবিলায় দ্রুত সামরিক বাহিনী ও প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের বিষয়ে সদস্য দেশগুলি একমত হয়েছে।

ইয়েমেনে সরাসরি যাবে না পাক স্থলবাহিনী

নিউ ইয়র্ক টাইমসকে আর এক পাক আধিকারিক জানিয়েছেন, হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলাতেই মূলত ইসলামাবাদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। অর্থাৎ বিমান সহায়তা দেওয়া হলেও ইয়েমেনে স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা কম। হুথিদের বিরুদ্ধে হামলায় পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ব্যবহারের খবর নিয়ে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে চাপ বাড়বে ইসলামাবাদের

এই ঘটনা সত্যি হলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে পাকিস্তানের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যেতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলেছে ইসলামাবাদ।

২০১৫ সালে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপে পাকিস্তানের অংশ না নেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছিল দেশটির সংসদ। প্রায় এক দশক পর মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স সক্রিয় হওয়া এবং সৌদি আরবে পাক বাহিনীর মোতায়েন ইসলামাবাদকে ফের ইয়েমেন সংঘাতের আরও কাছে নিয়ে আসছে।

আর যদি সত্যিই পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিয়ে থাকে, তাহলে সৌদির জন্য শুধু প্রতিরক্ষামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেওয়ার জায়গায় থাকবে না ইসলামাবাদ। বরং ইরান-সমর্থিত একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

ফলে রিয়াদের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা এবং তেহরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাত এড়ানোর মধ্যে ভারসাম্য রাখার ক্ষেত্রে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে পাকিস্তান।

Read more!
Advertisement
Advertisement