
মহাকাশের অসীম অন্ধকারের মধ্যে একটি ছোট্ট নীল বিন্দু। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, এ যেন ধুলোর কণা। অথচ সেই বিন্দুর মধ্যেই রয়েছে আমাদের পৃথিবী। রয়েছে মানুষ, পশুপাখি, সমুদ্র, পাহাড়, বনজঙ্গল এবং আমাদের চেনা গোটা পৃথিবী। এই ছবির নাম ‘পেল ব্লু ডট’ (Pale Blue Dot)। মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে অন্যতম বিখ্যাত এই ছবি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিশাল মহাবিশ্বের তুলনায় পৃথিবী কত ছোট!
Pale Blue Dot-এর ছবি কীভাবে তোলা হয়েছিল?
১৯৯০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। পৃথিবী থেকে কয়েকশো কোটি কিলোমিটার দূরে তখন ঘুরে বেড়াচ্ছে নাসার মহাকাশযান ভয়েজার ১ (Voyager 1)। ১৯৭৭ সালে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল এই যানটিকে। সৌরজগতের বাইরের দিকের গ্রহগুলি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করাই ছিল তার অন্যতম উদ্দেশ্য।
কিন্তু তার পরেও একটি বিশেষ কাজ বাকি ছিল। বিজ্ঞানী কার্ল সেগানের অনুরোধে ভয়েজার ১-কে পৃথিবীর দিকে ক্যামেরা ঘোরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই ক্যামেরায় ধরা পড়ে পৃথিবীর ছবি। দূরত্ব এতটাই বেশি ছিল যে, ছবিতে পৃথিবীকে একটি ক্ষুদ্র আলোর বিন্দুর মতো দেখায়। সূর্যের আলোও ছবিতে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই আলোর রেখার মধ্যেই দেখা যায় আমাদের গ্রহকে।
পৃথিবী থেকে প্রায় ৬০০ কোটি কিলোমিটার দূরত্ব থেকে ছবিটি তোলা হয়েছিল। এই কারণেই ছবিটি এত স্পেশাল। পৃথিবীকে এত দূর থেকে দেখলে বোঝা যায়, মহাকাশের বিশালতার তুলনায় আমাদের গ্রহ কতটা ছোট।
কেন এই নাম?
ইংরেজি ‘Pale Blue Dot’ কথাটির অর্থ হল ‘ফ্যাকাশে নীল বিন্দু’। ছবিতে পৃথিবীকে নীলচে রঙের একটি ছোট্ট বিন্দুর মতো দেখায়। পৃথিবীর সমুদ্র, বায়ুমণ্ডল এবং সূর্যের আলোর প্রভাবে এই নীলচে চেহারা তৈরি হয়েছে। সেই দৃশ্য থেকেই ছবিটির এমন নাম।
কার্ল সেগান ও পেল ব্লু ডট
বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান প্রচারক কার্ল সেগান এই ছবির গুরুত্ব মানুষের কাছে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর মতে, পৃথিবী আমাদের সবার একমাত্র পরিচিত বাসস্থান। এখানে মানুষ নানা কারণে একে অপরের সঙ্গে লড়াই করে। কিন্তু মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখলে সেই বিভেদগুলি কত ছোট, কত তুচ্ছ।
পৃথিবীর বাইরে মানুষের বসবাসের উপযোগী অন্য কোনও গ্রহ এখনও নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি। তাই আমাদের এই ছোট্ট নীল গ্রহকে রক্ষা করা, প্রকৃতির যত্ন নেওয়া এবং একে অপরের সঙ্গে শান্তিতে থাকা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।