
Paraguay Bank Crisis: রাতারাতি জীবনের সমস্ত সঞ্চয় হারালেন একটি দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ। প্যারাগুয়ের ডিজিটাল লোন সংস্থা ইউএনও ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। ২০২২ সালেই ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিষেবা চালু করেছিল এই সংস্থা। ২০২৪ সালে ভিশন ব্যাঙ্কের সঙ্গে এটি জুড়ে যায়। এক লাফে গ্রাহকসংখ্যা বাড়ে। অল্প সময়েই দেশের অন্যতম বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় ইউএনও।
৩ নভেম্বর প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সংস্থাটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, ব্যাঙ্কের আর্থিক স্বাস্থ্য দ্রুত তলানির দিকে যাচ্ছিল। মূলধনের পরিমাণ আইনত প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সীমার তুলনায় অনেক কম ছিল। মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের পরিচিত লোক-সংস্থাদের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ দেওয়া এবং লেনদেনের নথিতে অসঙ্গতির অভিযোগও উঠেছে।
বিপাকে সাধারণ মানুষ
ইউএনও-র গ্রাহক প্রায় ৩০ লক্ষ। এদিকে প্যারাগুয়ের মোট জনসংখ্যাই মাত্র ৬৫ লক্ষ। ফলে দেশের বড় অংশের মানুষ এই সঙ্কটে প্রভাবিত হয়েছেন। ব্যাঙ্কটিতে প্রায় ৮৫০ কোটি নয়, ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি অর্থ জমা ছিল বলে খবর। এর মধ্যে পেনশন ও স্বাস্থ্য তহবিলের অর্থও রয়েছে। প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন ডলার ছিল রাষ্ট্রীয় পেনশন ও স্বাস্থ্য তহবিলের জমা। পেনশন পেতেন এমন প্রায় ৩২ হাজার মানুষও সমস্যায় পড়েন।
সরকার আমানতকারীদের টাকা ফেরাতে গ্যারান্টি ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে। ছোট আমানতকারীদের একাংশ টাকা ফেরত পেতেও শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের হিসাবে, আমানত বিমার আওতায় প্রায় ৯৭ শতাংশ গ্রাহক রয়েছেন।
গৃহবন্দি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট
ইউএনও-র নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী গ্রুপো ভাজকেজ়ের সঙ্গে পেনার অতীতের আর্থিক সম্পর্ক ছিল। তিনি ২০২৫ সালে নিজের অংশীদারি বিক্রি করেছেন বলে দাবি করেন। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাঙ্কটির প্রসারে সাহায্য করেছিলেন তিনি। পেনা অবশ্য কোনও অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন।
৫ নভেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা করেন তিনি। কিন্তু ৬ নভেম্বর সেনেট তাঁকে অভিশংসিত করে। উপরাষ্ট্রপতি আলিয়ানা ২০২৮ সালের অগস্ট পর্যন্ত বাকি মেয়াদের দায়িত্ব নিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে পেনাকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে। ব্যাঙ্ককাণ্ডে ২৭ জন আধিকারিক ও সহযোগীর বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।