
Japan Earthquake Tsunami: সোমবার, জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের কম্পন এতটাই তীব্র ছিল যে পুরো দেশ কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্পের এই শক্তিশালী কম্পনের পর দেশটিতে সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। জাপানের মৌসম বিভাগের মতে, সোমবার জাপানের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭.৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এরপর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইওয়াতে প্রদেশের কুজি বন্দরে প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার উঁচু সুনামির ঢেউ দেখা গেছে।
উত্তর জাপানে সুনামি
উত্তর জাপানের হোক্কাইডোতে ৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা কুজি বন্দরে প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার (২.৬ ফুট) উচ্চতার একটি সুনামি পর্যবেক্ষণ করেছে, অন্যদিকে অন্য একটি বন্দরে ৪০ সেন্টিমিটার (১.৩ ফুট) উচ্চতার একটি ছোট সুনামি রেকর্ড করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি একটি জরুরি টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণাকরেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। টোকিওতে তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তাকাইচি বলেন, 'সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিষয়টি এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'
আরও ধাক্কা আসতে পারে
এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জাপানে ভূমিকম্পটি বিকেল ৪:৫৩ মিনিটে ঘটে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে ঘটে। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) অনুসারে, জাপানের মিয়াকো শহরের প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে সমুদ্রের নিচে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। এর প্রাথমিক তীব্রতা ৭.৪ পরিমাপ করা হয়েছিল, যা পরে বেড়ে ৭.৫ হয়। কিয়োডো নিউজের রিপোর্ট অনুসারে, জাপানের মৌসম বিভাগ সতর্ক করেছে, আগামী এক সপ্তাহে এই ধরনের আরও ভূমিকম্প হতে পারে।
ঢেউ তিন মিটার পর্যন্ত উঠতে পারে
সংস্থাটি হোক্কাইডো, আওমোরি এবং ইওয়াতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। ৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের পর প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জনগণকে উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এই সঙ্কটকালে নাগরিকদের ধৈর্য ধরে থাকার জন্যও আবেদন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষদের সমুদ্র সৈকত এবং নদীর মোহনা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ সেখানে জল দ্রুত বাড়তে পারে।
পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি নিরাপদ
কিয়োডো নিউজের মতে, ভূমিকম্পের পর আওমোরি এবং মিয়াগিতে অবস্থিত হিগাশিদোরি ও ওনাগাওয়া পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনও সমস্যা শনাক্ত করা যায়নি। একইভাবে, ফুকুশিমার ফুকুশিমা দাইচি এবং দাইনি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে জানা গেছে। এই সমস্ত কেন্দ্রের পরিচালকরা নিশ্চিত করেছেন, সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে, সানায়ে তাকাইচি নিরাপত্তার জন্য জনগণকে, বিশেষ করে ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত এলাকার বাসিন্দাদের, উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জেআর ইস্ট আরও জানিয়েছে, টোকিও এবং শিন-আওমোরির মধ্যে তোহোকু শিনকানসেন বুলেট ট্রেন পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে।
২০১১ সালের ভয়াবহ স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়ায় জাপানকে
জাপান পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। ফলে প্রতিটি মাঝারি বা বড় ধাক্কাই মানুষকে মনে করিয়ে দেয় ২০১১ সালের ভয়ানক বিপর্যয়ের কথা। সেদিন ৯.০ মাত্রার এক শক্তিশালী সমুদ্রতলের ভূমিকম্প বিশাল সুনামি সৃষ্টি করেছিল, যাতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ মারা যায়। সেই ট্র্যাজেডির পর দেশে ভূমিকম্প-সতর্কতা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। তাই প্রশাসন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধারকার্য ও সতর্কতা জারি করেছে।