
২০২৬ সালের শুরুটা স্বর্গীয় ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব। ৩ জানুয়ারি, শনিবার বছরের প্রথম পূর্ণিমা পড়েছে। তবে এটি আর ৫টা সাধারণ পূর্ণিমা নয়, এবার আকাশে দেখা যাবে 'উলফ মুন'। এ ক্ষেত্রে চাঁদ স্বাভাবিক দিনের তুলনায় বড় এবং উজ্জ্বল দেখাবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এই 'উলফ মুন'-এর নেপথ্যে রয়েছে একটি ঐতিহাসিক কারণ। প্রাচীণকালে তীব্র ঠান্ডায় সময়ে উত্তর গোলার্ধে নেকড়েদের চিৎকার বেশি শোনা যেত। যে কারণে এই পূর্ণিমার নামকরণ করা হয় 'উলফ মুন'।
খালি চোখে দেখা যাবে 'উলফ মুন'?
এই দিনে চাঁদ পৃথিবীর তুলনামূলক ভাবে কাছাকাছি থাকবে। যার ফলে এটি আরও বড় এবং উজ্জ্বল দেখাবে। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে, মানুষ টেলিস্কোপ বা অন্যান্য জ্যোতির্বিদ্যার যন্ত্র ছাড়া সহজেই এটি দেখতে পারবে। খোলা মাঠ বা ছাদ থেকে এটি দেখার বিশেষ অভিজ্ঞতা হবে।
ধর্মীয় তাৎপর্য
৩ জানুয়ারি ধর্মীয় বিশ্বাসে পৌষ পূর্ণিমা হিসেবে একটি পবিত্র দিন। এই উপলক্ষে সারা দেশের ভক্তরা গঙ্গা সহ পবিত্র নদীগুলিতে স্নান করবেন এবং দান-ধ্যান করবেন। বিশ্বাস করা হয়, পৌষ পূর্ণিমায় ভগবান বিষ্ণু এবং দেবী লক্ষ্মীর পুজো করলে সুখ ও সমৃদ্ধি আসে। এই দিনটি প্রয়াগরাজে মাঘ মেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা করে। যেখানে লক্ষ লক্ষ ভক্ত অংশগ্রহণ করেন।
পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে
এই দিনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাজাগতিক ঘটনা ঘটবে। ৩ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে পৃথিবী তার কক্ষপথে সূর্যের সবচেয়ে কাছে পৌঁছবে। এই অবস্থানটিকে জ্যোতির্বিদ্যার ভাষায় পেরিহেলিয়ান বলা হয়। সেই সময়ে পৃথিবী এবং সূর্যের মধ্যে দূরত্ব হবে প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন ৯৯ হাজার ৮৯৪ কিমি।
পেরিহেলিয়ানের সময়ে পৃথিবী তার কক্ষপথে সবচেয়ে দ্রপত গতিতে ঘুরতে থাকে। প্রায় ৩০.২৭ কিমি প্রতি সেকেন্ডে। বিপরীত ভাবে যখন পৃথিবী সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে তখন তাকে অ্যাপেলিয়ান বলা হয়। যা ৬ জুলাই হবে।